চার্জশিট দাখিল
পল্লবীতে শিশু হত্যার বিচার ৫ থেকে ৭ দিনে, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সচিবালয় বিট সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ১৫:৫৮ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১৬:২২
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার বিচার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, 'তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে।'
আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি শিশু ধর্ষণ ও হত্যার একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'এটি মূলত সামাজিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকটের ফল। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ থেকে সমাজ বিচ্যুত হওয়ায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।'
মন্ত্রী বলেন, 'সরকার দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত তিনমাসে আলোচিত ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছে।'
পল্লবীতে শিশু হত্যার মামলায় অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের সাত ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সহযোগী হিসেবে তার স্ত্রীর নাম উঠে আসায় তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আদালতের অনুমতি নিয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ময়নাদতন্ত প্রতিবেদনও তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে এসেছে। এসব তথ্য-উপাত্ত একত্র করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়েছে এবং আজ আদালতে তা জমা দেওয়া হয়েছে।'
আদালতের ছুটি থাকলেও এ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া মামলাটি পরিচালনার জন্য একজন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্টে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ''সামনে যেসব পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে, সেগুলোতে আগের মতোই ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ শব্দটি যুক্ত থাকবে। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং দেশের মানুষের চাহিদার প্রতিফলন।''
পাসপোর্টের নকশা ও ভিসা পাতার বিষয়ে তিনি বলেন, 'অতীতে সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপস্থাপনা ছিল, যা দেশের সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। নতুন নকশায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।' মন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে মুদ্রার নোটে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি সংযোজনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। যদিও বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, তবুও এ নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, টাঙ্গুয়ার হাওর ও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মতো জাতীয় ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এসব উপস্থাপনায় কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে না। বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতিনিধিত্বই সেখানে তুলে ধরা হবে। সবকিছুতে রাজনৈতিকীকরণের যে প্রবণতা ছিল, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।'
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং তার সম্ভাব্য ট্রাভেল পাস নিয়ে সরকারের কোনো প্রস্তুতি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য অনেক আগেই চিঠি পাঠিয়েছি, বারবার পাঠিয়েছি। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত পাঠানো হবে বলে আমরা আশা করি। সরকার চায়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোন।'
সংলাপে অনলাইন জুয়া ও ব্যাটিং নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমানে প্রচলিত আইনটি অনেক পুরোনো। ১৮৬৭ সালের আইনের পরিবর্তে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যাটিংসহ আধুনিক অপরাধের ধরন মোকাবিলায় যুগোপযোগী নতুন আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
