মমতার মন্তব্যে হাদি হত্যাকাণ্ড আবার আলোচনায়
শরিফ ওসমান হাদি
সমকাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বক্তব্যের পর আবার আলোচনায় এসেছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল সবটাই জানি। আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে। এতদিন আমি বলিনি, মুখ খুলিনি। অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে আমি এখনও নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে– আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।’
মমতার এ মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে হচ্ছে নানা ধরনের আলোচনা। কেউ কেউ মনে করেন, বিজেপি ও মমতার নির্বাচনী দ্বন্দ্বের কারণেই বাংলাদেশকে জড়িয়ে এমন মন্তব্য আসতে পারে। আবার মমতার এ বক্তব্য সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য কারও কারও।
গতকাল রাতে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার কাদের ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, ‘মমতার এমন বক্তব্য তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয়। তিনি কি এই মামলায় সাক্ষ্য দেবেন? গ্রেপ্তার আসামিদের পাওয়া গেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তদন্তের ক্ষেত্রে আমরা পূর্ণ মনোযোগী।’
এদিকে হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে কথা বলতে চান না পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, হাদি হত্যার আসামি যারা ভারতে গ্রেপ্তার আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে চায় সরকার। সেটা করা হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
মমতার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আকাশ-পাতাল বলে তো লাভ নেই। আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে, সে দেশে একজন পরাজিত হয়েছেন, সে পরাজিত একজন নেতা একটা কথা বলেছেন। এটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।’
তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার যদি এখন বাংলাদেশকে হাদি হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে… অলরেডি তো এটা নিয়ে কাজ চলছে, কাজ এগিয়েছে এবং খুবই সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই এবং যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদের ফেরত এনে এখানে বিচার দ্রুত করতে হবে। সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন– ‘হাদি হত্যার কালপ্রিটদের ফেরত আনতে হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি খুবই সিরিয়াসলি। এটা কিন্তু বেশ ভালো এগিয়েছে। সুতরাং আমরা ওইদিকে আগাতে চাই। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে যদি তারা কোনো কথা বলে, তখন সেটা আমরা দেখব।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মমতা কারও নাম বলেননি। তবে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গকে মিলিয়ে রাজনীতির নাটাই হাতে রাখতে চাইছে। তাঁর কথা থেকে বোঝা যায় যে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আধিপত্যবাদী চিন্তা থেকে এ দেশের সরকারে ওঠা-নামার রাজনীতিতে ভারত যে খেলা খেলে বলে বলা হয়, সেই খেলাতেই তারা মেতে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে মমতার এ বক্তব্য সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে ভারত সরকারের বক্তব্য সরকার জানতে চাইতে পারে।’
নতুন কর্মসূচি ইনকিলাব মঞ্চের
হাদি হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা ও খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল ও শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময় নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪-১৫ বার হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানো হয়েছে। আমরা আর এটি পেছাতে দেব না।
ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে দুটি পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিএনপি ও জামায়াত হাদি হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ব্যাপারে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, কেন এমন পোস্ট দিয়েছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
- বিষয় :
- শরিফ ওসমান হাদি
