ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দ্রুত বিচার হলেও হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে বছরের পর বছর আটকে যাচ্ছি: আইনমন্ত্রী

দ্রুত বিচার হলেও হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে বছরের পর বছর আটকে যাচ্ছি: আইনমন্ত্রী
×

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ১৯:৫৮

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘দ্রুত বিচার হলেও (নিম্ন আদালতে) আমাদের সমস্যা হলো, আমরা হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে গিয়ে বছরের পর বছর আটকে যাচ্ছি, ডেথ পেনাল্টির পেপারও রেডি হয় না এবং ব্যাকলগের কারণে। সেটারও সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এনব কথা বলেন। ‘লিগ্যাল রিপ্রেজেন্টেশন ইন ডেথ পেনাল্টি কেসেস ইন বাংলাদেশ: অ্যান ইম্পাইরিক্যাল অ্যান্ড কনসেপ্টুয়াল এনালাইসিস’ শিরোনামে সেমিনারটি আয়োজিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ডেথ পেনাল্টির বিরোধী। এটা আমার মানবাধিকারের প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তারপরও কিছু কথা থেকে যায়। যখন দেখি ৮ বছরের একটা শিশুকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেও শান্ত হয়নি; পানি দিয়ে ধুয়ে সমস্ত প্রকার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, তখন এই সমাজের একজন অংশ হিসেবে, মানুষ হিসেবে আমারও মনে হয় এদের বিচার প্রয়োজন। যে নিজেই স্বীকার করছে যে এরকম একটি অপরাধ করেছে।’

তিনি বলেন, সামাজিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি না। যখন দেখি, সাড়ে ৩ বছরের একটা শিশুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে, ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, তখন যদি সমাজ থেকে প্রতিবাদ আসে, এদের ফাঁসি চায় এবং সেই প্রতিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলার মত সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আইনি বাস্তবতা থাকে না এবং নৈতিক বাস্তবতাও সেখানে মাথা নত করে। এটা হলো আমাদের বাস্তবতার জায়গা।’

রাজধানীর পল্লবী ও মাগুরার শিশু হত্যা মামলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। পল্লবীর ঘটনায় মামলা হওয়ার সাত ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অভিযোগপত্র দাখিলের পর ছয় কার্যদিবসের মধ্যেই বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলেও পরবর্তী ধাপে উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে।’

প্রত্যেক অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা জজের তত্ত্বাবধানে লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও আইনি সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইড ব্যবস্থার আওতায় প্রি-ট্রায়াল ও চলমান মামলায় মধ্যস্থতার (মিডিয়েশন) ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, চুরি, যৌতুকসহ কিছু ধরনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার পরিবর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করা গেলে হয়রানি ও মামলা জট উভয়ই কমবে।

দেশে আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার অভাবের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবীর অধিকাংশই বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়ার পর আর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। অথচ কাজী, সাব-রেজিস্ট্রার, এসিল্যান্ড কিংবা কানুনগোদের জন্যও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে আইনজীবীদের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।’

এ সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদানের একটি বাধ্যতামূলক বিধানের চিন্তার কথাও জানান। তিনি বলেন, যেসব আইনজীবী উচ্চ ফি-তে মামলা পরিচালনা করেন, তাদের প্রতি ১০টি মামলার অন্তত একটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করা উচিত। এটিকে তিনি ‘লিগ্যাল প্রফেশনের যাকাত’ হিসেবে আখ্যা দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইকরামুল হক প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×