পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুহত্যা
দুই আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ, অর্থদণ্ড স্থগিত
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৩৫
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের করা পৃথক জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। তাদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন। পাশাপাশি আসামিদের অর্থদণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
এই মামলায় দুই আসামিকে গত ৭ জুন মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য ঢাকার বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ৯ জুন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১১ জুন পৃথক জেল আপিল করেন সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শরীফ ইউ আহমেদ, মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
পরে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আপিল আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে রায় কার্যকর দেখতে চায়। হাইকোর্টের আদেশটি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় যাওয়ার পর সেটি মামলার মৃত্যুদণ্ড রেফারেন্স শুনানির প্রস্তুতির জন্য পেপারবুক তৈরি হবে। তিনি বলেন, আদালত আপিল মঞ্জুর করেছেন এবং সেই আপিলটি মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্সের সঙ্গেই শুনানি হবে। কারণ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জেল আপিল করার জন্য সাতদিন সময় থাকে।
সব মামলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান ব্যক্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো মামলায় শুনানি করতে খুবই সিরিয়াস। প্রত্যেকটি মামলা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যারা দীর্ঘদিন ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন, তাদেরও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হবে, তত তাড়াতাড়ি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
- বিষয় :
- হাইকোর্ট
- শিশু হত্যা
- ধর্ষণ
- মৃত্যুদণ্ডের আদেশ
