বিশেষজ্ঞদের দাবি
প্রস্তাবিত বাজেটে সস্তা হবে তামাকপণ্য, বাড়িয়ে তুলবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৩:১৯
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও মূল্য কাঠামো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম নামমাত্র বাড়ানো এবং বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাস্তবে এসব পণ্য আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে পড়বে, যা তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহার বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করবে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হক, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্নস্তরের সিগারেটের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা দরিদ্র ও তরুণরা। প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির তুলনায় নগণ্য। এতে তামাক পণ্য কার্যত আরও সস্তা হয়ে পড়বে বলে দাবি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হতো, পাশাপাশি প্রায় ৪ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু রোধ করা যেত।
তারা আরও বলেন, বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম ও কর অপরিবর্তিত থাকায় এসব ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীদের জন্য সহজলভ্য থাকবে, যা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর কর আরোপেরও সমালোচনা করা হয়। বক্তাদের মতে, এতে এসব ক্ষতিকর পণ্যকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি তৈরি করবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৫ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়। এছাড়া তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের চেয়ে বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে বাজেটের চূড়ান্ত পর্যায়ে তামাক কর ও মূল্য কাঠামোর আমূল সংস্কার, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূতকরণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু এবং বিড়ি-জর্দাসহ সব তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
- বিষয় :
- বাজেট ২০২৬-২৭
- তামাকজাত দ্রব্য
