ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

শহীদ ফারহান ফাইয়াজ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইলেন বাবা শহিদুল

শহীদ ফারহান ফাইয়াজ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইলেন বাবা শহিদুল
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৪:১৯

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আসামি ২৮ জন।

বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ বুধবার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

ফাইয়াজ রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিতে নিহত সে হয়। তার মৃত্যুতে সে সময় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ফুঁসে উঠেছিলেন ফারহানের সহপাঠীসহ সারাদেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

আজ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া নিজের জবানবন্দিতে ছেলে হত্যার নৃশংস বর্ণনা তুলে ধরেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। একইসঙ্গে নানক-তাপসসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ মামলায় ২৮ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ডিএমপি সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

এর আগে, গত ১০ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ২৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।

আরও পড়ুন

×