ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা টিআইবির

দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা টিআইবির
×

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ১৪:৫০

পাসপোর্ট, বিআরটিএ এবং বিচারখাতকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।  

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন 'সেবা খাতে দুর্নীতি জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫' এ এ তথ্য উঠে এসেছে। 

টিআইবির গবেষণা দলের সদস্যরা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। সময় সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দুর্নীতিগ্রস্ত খাদ গুলোর মধ্যে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ভূমি, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয় পত্র, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহায়তা, বিদ্যুৎ, বীমা গ্যাস, ব্যাংকিং, এনজিও, কর শুল্ক। 

২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হয়। তবে সেবা খাতে দ্রুত বিষয়ক তথ্যের বিবেচ্য সময় ছিল নভেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫। 

এতে বলা হয়, সেবা খাতে দেশের ৬৩.৬ শতাংশ মানুষ ঘুষের শিকার হন। গ্রাম পর্যায়ের ৬৬ শতাংশ, শহর পর্যায়ে ৫৮.৫%। পাসপোর্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঘুষের শিকার হন যা ৭৯.১ শতাংশ। জাতীয়পর্যায়ের ৭৬.৬ এবং শহরাঞ্চলে ৭১.৮%।  সকল ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভাবে গ্রামের মানুষ বেশি ঘুষের স্বীকার হন।

ডক্টর ইফতেখার বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা। টিআইবি বলছে, দুদক এখনও কমিশনহীন রয়েছে। সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে। একজন নেতৃত্বগুনাবলী লোক ব্যক্তিকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হবে সংস্থাটি প্রত্যাশা করেছে। 

জাতীয় খানা জরিপে আরও বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ২০২৩ সালের থেকে ২০২৫ সালের দুর্নীতি আরও বেড়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করবে। কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কাছে নত হবে না। সরকার যে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গিকার রয়েছে তিনি সেটি স্মরণে রাখবেন।

টিআইবি জানায়, কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের পর ছাত্র-জনতার বৈষম্যহীন, সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত, সম-অধিকারভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার প্রত্যাশার বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায় ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৫-এ জরিপের আওতাভুক্ত সেবাখাতে সার্বিকভাবে দুর্নীতি বেড়েছে। খানা জরিপ ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৫-এ জাতীয়ভাবে দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হওয়া খানার হার বৃদ্ধি পেয়েছে (যথাক্রমে ১৫.১ শতাংশ ও ২৫.২ শতাংশ); ২০২৩ এর মতোই খানা জরিপ ২০২৫-এ সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার পাসপোর্ট ও বিআরটিএ থেকে সেবা নিতে গিয়ে। তবে ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৫-এ খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে; খানা জরিপ ২০২৫-এ গড় ঘুষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যথাক্রমে বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা, ব্যাংকিং ও ভূমি খাতে। 

অপরদিকে, খানা জরিপ ২০২৫-এ জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ২০২৩-এর তুলনায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি, এবং ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

টিআইবি আরও জানায়, একদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় দুর্নীতি ও ঘুষের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে, যা সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা; অন্যদিকে কৃষি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে উচ্চ দুর্নীতি ও ঘুষ বৃদ্ধি পেয়েছে বা একইরকম রয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক সেবাপ্রাপ্তির অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আরও পড়ুন

×