জুতা চুরি নিয়ে সংঘর্ষ
জবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, সাংবাদিকসহ আহত ১৩
ছবি- সংগৃহীত
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৯ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩১
পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড় এলাকায় জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকের এই ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা গভীর রাতে সড়ক অবরোধ করেন। ঘটনার পর মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের বাসা থেকে জুতা চুরির অভিযোগ ওঠে মাইকেল নামে স্থানীয় এক লোকের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে মাইকেলকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে আটকে রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে স্থানীয়রা সবাই একত্রিত হয়ে মাইকেলকে ছাড়িয়ে নেয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থী নিয়ে তাদের ওপর হামলাকারীদের খুঁজতে আসেন। তখন হামলাকারীরা একটি বাসায় আশ্রয় নেয়।
শিক্ষার্থীরা সেখানে হামলাকারীদের ধরার জন্য বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকারীকে পুলিশি পাহারায় বের করে নিয়ে আসেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আক্রমণকারীকে ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং এতে অন্তত ৮ জন আহত হন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত সাংবাদিক দৈনিক সময়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায় বলেন, আমি ঘটনাটির ছবি তুলছিলাম। একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্য আমার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন। এতে আমার পায়ে এবং শরীরে আঘাত লাগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের ল বিভাগের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। আমার মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা কেটে যাওয়ার কারণে ৩টি সেলাই করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর গায়ে এভাবে অন্যায়ভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে পারে না। আমরা এ বিষয় নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলব।
এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা অব্দি মুরগিটোলা মোড় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত মাইকেল ও আশিকুর রহমান আশিককে আটক করে পুলিশ।
এ বিষয়ে ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহসীন মাসুদ বলেন, ঘটনার সূত্রপাত জুতা চুরিকে কেন্দ্র করে। আমরা মূল আসামিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে বের করে নিয়ে আসি এবং একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে তাকে বের করে নিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। এতে পুলিশের ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
- বিষয় :
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
- সংঘর্ষ