হাম ও উপসর্গে শিশুর মৃত্যু বেড়ে ৭৫০
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০১:০৮ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০১:০৯
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত প্রায় চার মাসে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫০ জনে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত এক দিনে সারা দেশে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ৯০১ জনের। সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
সরকারের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫৭ জন মারা গেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে রাজশাহী বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ৮৯ জন। এ ছাড়া সিলেটে ৮৮, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪২, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৯ ও রংপুর বিভাগে ৯ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩১১ জন। আর রাজশাহীতে ১৭, সিলেটে ৬৫, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১১০, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪৬ ও রংপুরে ৯ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৯২ হাজার ৮৩১ জনে; যার মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। আর দেশে হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনে এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২৬।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কথা আমরা বলছি। কিন্তু বর্তমান কর্তৃপক্ষও দায় এড়াতে পারে না। অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফিল্ড হাসপাতাল, জরুরি আইসিইউ ব্যবস্থাপনা– এসব ব্যবস্থা নেওয়া খুব কঠিন কিছু নয়।
ডা. লেলিন চৌধুরী হামের জেনোটাইপ শনাক্তে পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে ডি-৮ ও বি-৪ জেনোটাইপ বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে নতুন জেনোটাইপ ছড়িয়ে পড়ছে কিনা, তা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর একটি অংশ শিশুদের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। পাশাপাশি আইসিইউর আগের পর্যায়ের রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা চালু করারও আহ্বান জানান তিনি।
মুশতাক হোসেন বলেন, কভিডের সময় হাই-ফ্লো অক্সিজেন দিয়ে বহু রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। এখন যেসব হাসপাতালে আইসিইউ আছে, সেখান থেকে নির্দিষ্ট অংশ শিশুদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউ ও শিশু হাসপাতালগুলোও জরুরি ভিত্তিতে সরকার অধিগ্রহণ করতে পারে।
- বিষয় :
- হাম
- হামের উপসর্গ
- শিশুর মৃত্যু