ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জুয়ার অর্থ লেনদেন

‎৬৬০০ এমএফএস অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম জব্দ, গ্রেপ্তার ৬

‎৬৬০০ এমএফএস অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম জব্দ, গ্রেপ্তার ৬
×

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৩২ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৩৬

অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন পরিচালনার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ৬,৬০০টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম, বিভিন্ন অপারেটরের ৬৭টি সিম, ৭০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন—আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সাইবার নজরদারিতে অনলাইনে পরিচালিত একাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করার পর দেখা যায়, এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেনে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপের লেনদেন পরিচালনায় বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত ‘গু পে’, ‘পে কাশমা’, ‘লাকি পে’, ‘এলকিউ পে’, ‘এক্সই পে’ ও ‘কোল পে’-সহ বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানি কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে লেনদেন সম্পন্ন করতে তারা স্থানীয় দালালদের কাছ থেকে এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় সহজ হওয়ায় এমএফএস অ্যাকাউন্টই বেশি ব্যবহার করে।

ডিবির দাবি, জুয়ার অর্থ প্রথমে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে সেই অর্থ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউএসডিটিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হয়। 

তদন্তে ডিবি জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট সিস্টেমে প্রায় ২০০টি পেমেন্ট কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘গু পে’-এর দৈনিক লেনদেনই পাঁচ কোটি টাকার বেশি। আর দেশের অনলাইন জুয়ার বাজারে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয় বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।

ডিবির ভাষ্য, গ্রেপ্তারকৃত আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশ অংশের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি চীনা নাগরিক ‘নাথান’ ওরফে ‘অ্যালিন’ (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তির হয়ে কাজ করতেন। চীনা ওই চক্রের সদস্যরা আগে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও বর্তমানে তারা চীন থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রিফাতের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, মোট লেনদেনের ০.২ থেকে ১ শতাংশ কমিশন পেত তাদের চক্র। সেই অর্থের একটি বড় অংশ এমএফএস এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও), সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। তাদের আবাসন, খাবার ও যাতায়াতসহ অন্যান্য সব ব্যয়ও বহন করত ওই বিদেশি পেমেন্ট কোম্পানি।

ডিবি আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়া একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ির মালিকও এই আরিফুল ইসলাম রিফাত। তাঁর নামে আরও একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। এসব অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিবি।

আরও পড়ুন

×