ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

গোল করে ইংল্যান্ড কেন খোলসে ঢুকে গিয়েছিল, জানালেন টুখেল

গোল করে ইংল্যান্ড কেন খোলসে ঢুকে গিয়েছিল, জানালেন টুখেল
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৯

ফাইনালের খুব কাছাকাছিই ছিল ইংল্যান্ড। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকার পরও শেষ মুহূর্তের ধাক্কায় ভেঙে যায় ইংলিশদের রক্ষণভাগ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ে থ্রি লায়ন্সদের সঙ্গী হয় স্বপ্নভঙ্গের হতাশা। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলেও লিওনেল মেসিদের আটকাতে ব্যর্থ হয় থমাস টুখেলের শিষ্যরা। উল্টো ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে তারা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর থেকেই টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

এমনকি ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন টুখেল। জবাবে হারের সমস্ত দায়ভার কাঁধে নিলেও ইংল্যান্ডের এই জার্মান কোচ জানান, নিজের সিদ্ধান্তের জন্য বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই তার।

ম্যাচ শেষে টুখেল বলেন, ‘আমরা রক্ষণভাগে পাঁচজন খেলোয়াড়কে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ মাঝমাঠে অনেক বেশি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়ে যাচ্ছিল। আর্জেন্টিনা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়ে ও ছন্দময় ফুটবল খেলছিল। সম্ভবত তাদের মনে হয়েছিল, তাদের আর হারানোর কিছুই নেই। তাদের এই মানসিকতা আমাদের রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা তখন এরকম মানসিকতা নিয়ে খেলছিলাম যে, আমাদের অনেক কিছু হারানোর ভয় আছে। অবশ্যই এর দায়ভার কোচের ওপরই বর্তায়, আর ফলাফল ভালো না হলে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল এমনটা বলা খুবই সহজ। আমাদের যেটা ডুবিয়েছে সেটা হলো আমরা যথেষ্ট পরিমাণ সক্রিয় ছিলাম না।’

আক্রমণাত্মক না খেলে উল্টো খোলসে ঢুকে যাওয়ার দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার পাশাপাশি সমালোচকদেরও এক হাত নিয়েছেন টুখেল। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে সবাই ফুটবল বিশেষজ্ঞ হয়ে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাঁটাছেঁড়া করবে, এটা তিনি আগেই জানতেন। টুখেলের ভাষ্য, ‘আমি জানি ইতোমধ্যেই এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। খেলা শেষে লাখ লাখ কোচ কোনটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল আর কোনটা ভুল এসব নিয়ে আলোচনা করা শুরু করে দিয়েছে। এসব নিয়ে আপনারা তাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু আমাকে ম্যাচের পর নয়, খেলা চলাকালীন মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি এভাবেই ম্যাচের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছিলাম। পরাজয়ের দায়ভার আমি নিচ্ছি।’

তবে দায় স্বীকার করলেও পরাজয়ে কোনো অনুতাপ নেই বলেও জানিয়েছেন এই জার্মান কোচ। একইসঙ্গে প্রশংসা করেছেন শিষ্যদের। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কোনো অনুতাপ নেই। দল তাদের সর্বোচ্চ দিয়েছে। আমরা জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের সেরা ম্যাচটাই খেলেছি। শুধু শেষ লাইনটাই অতিক্রম করতে পারিনি।’

১৯৬৬ সালের পর থেকে শিরোপা না জেতা ইংল্যান্ডকে ২০১৮ বিশ্বকাপেও একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল। সেবার সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের। বড় ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও এভাবে ম্যাচ হেরে আসাটা ইংলিশদের মানসিকতার সাথে সম্পর্কিত কি না, জানতে চাইলে টুখেল বলেন, ‘আমি এসব বিশ্বাস করি না। বিভিন্ন সময়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে মাত্র। অথচ কোচ আলাদা, খেলোয়াড় আলাদা, এমনকি পরিস্থিতিও ভিন্ন।’

আরও পড়ুন

×