ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

লাপোর্তেকে অন্য রকম ‘গার্ড অব অনার’

লাপোর্তেকে অন্য রকম ‘গার্ড অব অনার’
×

স্পেনের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী আইমেরিক লাপোর্তে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জন্মভূমি ফ্রান্সকে রুখে দিয়ে আলোচনায় এ ডিফেন্ডার

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৪:১৫ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৩৬

ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশির প্রায় মিনিট দশের পরের ঘটনা। স্প্যানিশরা তখন বিজয় উদযাপনে ব্যস্ত। এর মধ্যে ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে গ্যালারির দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিয়ে স্পেনের ডাগআউটের সামনে যান। তিনি সেখানে যাওয়ার পর একটা দারুণ ঘটনা ঘটে। তাঁকে দেখামাত্র স্পেনের কোচিং স্টাফ এবং সেখানে যে কজন খেলোয়াড় ছিলেন, তারা সারিবদ্ধভাবে দুটি লাইন করে দাঁড়ান। সেই লাইনের মধ্য দিয়ে হাসতে হাসতে হেঁটে হেঁটে ডাগআউটের দিকে যান লাপোর্তে। ৩২ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাককে এমন ‘গার্ড অব অনার’ দিতে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। আসলে নিজের জন্মভূমিকে হারিয়েছে বলে স্প্যানিশরা তাঁকে এই বাড়তি সম্মান দিয়েছে।

স্পেনের হয়ে লাপোর্তের খেলার পেছনে একটা তিক্ত ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৪ সালের ২৭ মে ফ্রান্সের আঁজে শহরে জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার লম্বা সময় ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলছেন স্পেনের জার্সিতে। এর কারণ হলো, ফ্রান্স জাতীয় দলে ডাক পাননি বলেই প্রপিতামহের দেশ স্পেনের হয়ে খেলেছেন। তাঁর পূর্বপুরুষ বাস্ক বংশোদ্ভূত। বাস্করা হলো ইউরোপের পশ্চিম পিরেনিস পর্বতমালার একটি আদিবাসী। উত্তর-পূর্ব স্পেন ও দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সজুড়ে তাদের বসবাস। ওই জাতিগোষ্ঠী হওয়ার কারণেই স্পেনের অ্যাথলেটিক বিলবাও ক্লাবের হয়ে লা লিগায় খেলার সুযোগ পান তিনি এবং স্পেনের নাগরিকত্ব পান। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণেই স্পেনের হয়ে খেলছেন তিনি।

তবে জন্মভূমি ফ্রান্সের হয়েই খেলতে চেয়েছিলেন লাপোর্তে। ২০১১ সালে ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে প্রথম মাঠে নামার পর থেকে দেশটির অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে নিয়মিত মাঠে নেমেছেন তিনি। ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের হয়ে ৫১টি ম্যাচ খেলা এ ডিফেন্ডার জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারেও নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু ২০১৬ ইউরোতে ফ্রান্স জাতীয় দলে ডাক না পেয়ে বড় ধাক্কা খান তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এই ধাক্কা তাঁর মনে বেশ প্রভাব ফেলে। তখন ফ্রান্স দলের অসংখ্য প্রতিভাবান ডিফেন্ডার ছিল। এ কারণেই স্পেন হয়ে খেলার বিষয়টি তাঁর মাথায় আসে।

এর কিছুদিন পর ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচ খেলার জন্য ফ্রান্স জাতীয় দলে ডাক পান লাপোর্তে। কিন্তু স্কোয়াডে ডাক পেলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এতে আবার হতাশায় ভেঙে পড়েন। ২০২০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দুটি ম্যাচেও ডাক পেয়েছিলেন তিনি। এবার চোটের কারণে খেলা হয়নি। অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ২০২১ সালে স্পেনের হয়ে খেলার ব্যাপার মনস্থির করে ফেলেন এবং দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে যান। এরপরই রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

২০২১ সালের মে মাসের শুরুতে স্পেনের হয়ে খেলার জন্য ফিফা ও উয়েফার কাছে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি পান। এরপর ২০২১ সালের ২৪ মে স্পেনের ২০২০ ইউরো (করোনা মহামারির কারণে এক বছর পর অনুষ্ঠিত হয়) স্কোয়াডে ডাক পান লাপোর্তে। ওই বছর ৪ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে স্পেনের পক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তাঁর। এরপর স্পেনের হয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলেন। ২০২৪ সালে ইউরোজয়ী স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেনের রক্ষণ সামলাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার ডালাসে জন্মভূমি ফ্রান্সের আক্রমণভাগ নিষ্ক্রিয় করে রাখার পেছনে রাখেন বড় ভূমিকা।

আরও পড়ুন

×