চোখে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করা কী নিরাপদ?
ছবি: সংগৃহীত
শৈলী ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৩
চুলের যত্নে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। স্ক্যাল্পে এই তেল ব্যবহার করলে নতুন চুল গজায়, আবার ভ্রু বা পাপড়িতে লাগালেও বেশ ভালো উপকার মিলে। ক্যাস্টর অয়েল উপকারী বলে অনেকে মনে করেন চোখের নানাবিধ সমস্যায় এটি ব্যবহার করা যায়। আসলেই কি চোখের জন্য কিংবা চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য এই তেল নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে ক্যাস্টর অয়েল চোখের জন্য নিরাপদ হতে পারে। তবে অবশ্যই উচ্চমানের, কোল্ড-প্রেসড ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করতে হবে। অর্গানিক কোল্ড-প্রেসড ক্যাস্টর অয়েল তাপ প্রয়োগ ছাড়াই বীজ থেকে নিষ্কাশন করা হয়। তাই এতে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় এটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
কসমেটিক-গ্রেড ক্যাস্টর অয়েলও চোখে ব্যবহার করা যায়। কারণ এটি বিশেষভাবে পরিশোধিত ও বিশুদ্ধ করা হয়, যেন প্রসাধনী হিসেবে নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। চোখের আশপাশের ত্বকেও এটি ব্যবহার করা যায়।
হেক্সেন-ফ্রি ক্যাস্টর অয়েলও চোখ ও এর আশপাশের ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এই তেল তৈরিতে হেক্সেন নামের রাসায়নিক দ্রাবক ব্যবহার করা হয় না। ফলে চোখের চারপাশের কোমল ত্বকে ব্যবহারের জন্য এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে এসব তেল ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত।
কেন ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করবেন?
• বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখের সমস্যায় ভোগেন। ক্যাস্টর অয়েলের লুব্রিকেটিং বৈশিষ্ট্য চোখের পৃষ্ঠে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণে অনেক আই ড্রপেও ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করা হয়।
• ক্যাস্টর অয়েলের ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য চোখের নিচের ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। চোখের নিচের কালো দাগ কমাতেও সহায়ক।
• ক্যাস্টর অয়েলে প্রায় ৯০ শতাংশ রিসিনোলিক অ্যাসিড থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পাপড়ি ঘন ও লম্বা করতে অনেকে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করেন।
• মেইবোমিয়ান গ্ল্যান্ড ডিসফাংশন হলে চোখ শুষ্ক লাগে, লাল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া ও ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্পমাত্রার ক্যাস্টর অয়েলযুক্ত আই ড্রপ এই সমস্যার কিছু উপসর্গ কমাতে সহায়ক।
• একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চার সপ্তাহ ধরে দিনে দুবার ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে ব্লেফারাইটিসের উপসর্গ কিছুটা কমতে পারে। ব্লেফারাইটিস হলো চোখের পাতার কিনারায় প্রদাহজনিত একটি সমস্যা। ক্যাস্টর অয়েলের প্রদাহরোধী ও সম্ভাব্য জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য লালভাব, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
• চোখের নিচে ফোলাভাব কমাতে অনেকেই ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করেন। এতে থাকা রিসিনোলিক অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। হালকা ম্যাসাজের মাধ্যমে ব্যবহার করলে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে ফোলাভাব কমে।
• ক্যাস্টর অয়েলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত ব্যবহারে চোখের নিচের সূক্ষ্ম বলিরেখা কমে যায়।
ছানি কি ক্যাস্টর অয়েলে ভালো হয়?
অনেকে দাবি করেন, ক্যাস্টর অয়েল ছানি কমাতে বা দূর করতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ছানি এমন একটি রোগ, যার কার্যকর চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চোখে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সতর্কতা
ক্যাস্টর অয়েল সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। এই তেল চোখের চারপাশে ব্যবহারের পর অ্যালার্জি, চোখে জ্বালা, অস্বস্তি, পানি পড়ার সমস্যা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সরাসরি চোখে বা চোখের উপরে-নিচে এই তেল ব্যবহার করা উচিত নয়।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ
- বিষয় :
- ক্যাস্টর অয়েল