রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটা যেভাবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১২:৪৫
অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করার ক্ষেত্রে অনেকেই দামি সাপ্লিমেন্ট, ডিটক্স পানীয় এবং কঠিন রুটিন অনুসরণ করেন। তবে, ভারতীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি বিশ্বাস করেন, হজম স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাসগুলোর মধ্যে একটি সহজ উপায় হলো রাতের খাবারের পর অল্প কিছুক্ষণ হাঁটা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের পরামর্শ শেয়ার করতে গিয়ে ডা. শেঠি ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি প্রতিদিন রাতের খাবারের পর হাঁটাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হিসেবে দেখেন এবং কীভাবে এই ছোট অভ্যাসটি হজম, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং সার্বিক সুস্থতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. শেঠির মতে, রাতের খাবারের পর হাঁটার অন্যতম বড় একটি উপকারিতা হলো এটি পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। সহজ কথায়, হাঁটা পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলোকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে খাবার পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও দক্ষতার সাথে চলাচল করতে উৎসাহিত হয়। এই অভ্যাসে পেট ফাঁপা কমে, অ্যাসিড রিফ্লাক্স হ্রাস পায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে যায়।
অনেকেই বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি বোধ করেন, কিন্তু হালকা হাঁটা পরিপাকতন্ত্রকে এর কাজ করতে আরও কার্যকরভাবে সাহায্য করতে পারে।
ডা.শেঠির রাতের খাবারের পর হাঁটার পরামর্শ দেওয়ার আরেকটি কারণ হলো রক্তে শর্করার উপর এর প্রভাব। তিনি উল্লেখ করেন, খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটাও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে, যা সাধারণত খাওয়ার পর বেড়ে যায়।
হাঁটার সময় যখন পেশিগুলো সক্রিয় থাকে, তখন সেগুলো শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যা শরীরকে আরও দক্ষতার সাথে শর্করা প্রক্রিয়াজাত করতে সাহায্য করে। এই সহজ অভ্যাসটি সেইসব মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে যারা রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে চেষ্টা করছেন। খাওয়ার পরপরই সোফায় বসে থাকার পরিবর্তে, অল্প কিছুক্ষণ হাঁটা খুব কম পরিশ্রমে উপকারিতা দিতে পারে।
ডা. শেঠী জানান, অনেকেই ডিটক্স জুস, ক্লিনজিং এবং ভালো হজমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ওয়েলনেস প্রোগ্রামের জন্য অর্থ ব্যয় করেন,কিন্তু রাতের খাবারের পর অল্প কিছুক্ষণ হাঁটলে কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হয় না। এই অভ্যাসের জন্য কোনো সরঞ্জাম, বিশেষ প্রশিক্ষণ বা জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনেরও প্রয়োজন নেই। বরং এই অভ্যাস হজমশক্তি উন্নত, বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যকর অন্ত্রে অবদান রাখতে পারে। তার মতে, এটি এমন একটি ছোট কাজ যা নিয়মিত অনুশীলন করলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল দিতে পারে। ডা. শেঠির মতে, যারা খাবারের পর সক্রিয় থাকেন, তাদের হজমশক্তি সাধারণত তাদের চেয়ে ভালো থাকে যারা নিষ্ক্রিয় থাকেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি
- বিষয় :
- হাঁটা