দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫১
চব্বিশের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, দুই বছরেও ওয়াসিম হত্যা মামলার বিচার না হওয়া বিচার বিভাগের দুর্বলতা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা মুরাপাড়ায় শহীদ ওয়াসিমের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে আমিও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে দেশের জনগণই তা প্রতিহত করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, দুই বছরেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই। হত্যাকান্ডের যিনি নির্দেশদাতা তিনিও সমানভাবে অপরাধী। তারও বিচার হতে হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই জুলাই-আগস্টের সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরের ষোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম।
এদিকে, গত বুধবার বিকেলে দক্ষিণ মেহেরনামা গ্রামের বাড়িতে কথা হয় শহীদ ওয়াসিম আকরামের মা জোছনা বেগমের সঙ্গে। ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটছে তার। ঘরের এক কোণে যত্ন করে রাখা ওয়াসিমের পাওয়া ক্রেস্ট, বিভিন্ন উপহার ও ছবিগুলো বারবার স্পর্শ করেন তিনি। কথা বলতে বলতেই চোখ ভিজে ওঠে তার।
জোছনা বেগম বলেন, ছেলেকে খুব মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। বাজার থেকে শুকনো খাবার এনে দিয়েছিল, বাড়ির সব কাজও করেছিল।
তিনি আরও বলেন, কবরের পাশে গেলে ফিরতে মন চায় না। মনে হয়, ছেলেটা এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।