‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই আমার দল সেরা ফুটবল খেলে’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০২
২০২৬ বিশ্বকাপ যেন আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের একের পর এক গল্প লিখছে। নকআউট পর্বে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার মতে, চাপ যত বাড়ে, এই দল ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠে। স্কালোনি বলেন, ‘আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, এই দল যখন প্রচণ্ড চাপে থাকে, তখনই তাদের সেরা ফুটবল বেরিয়ে আসে। আমরা যখন সংগ্রাম করি আর প্রতিপক্ষ সামান্য সংশয়ে পড়ে, তখনই আমরা জয়ের গন্ধ পাই এবং সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই দল আমাকে প্রতিবারই সেই বিশ্বাস দেয়।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য লড়াই দেখে আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেন, ফল যাই হোক, তার খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি, কারণ আমার দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছে। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজ যদি আমরা বিদায়ও নিতাম, তবুও জানতাম, মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি।’
আর্জেন্টিনাক কোচের মতে, ইংল্যান্ডের গোল হজম করার পরই আর্জেন্টিনা নিজেদের আসল ফুটবল খেলতে শুরু করে। স্কালোনি আরও বলেন, ‘ওদের গোলের পর আমরা দেখিয়েছি, ফুটবল আসলে কী। শুধু কৌশল বা ট্যাকটিকস নয়, বিশ্বাস, সাহস আর লড়াইও ফুটবলের অংশ। শেষ ৪০ মিনিটে আমরা ঠিক সেটাই করেছি।’
নিজের খেলোয়াড়দের ‘যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে স্কালোনি বলেন, কঠিন মুহূর্তে এই দল কখনো ভয় পায় না। ‘তারা প্রত্যেকে যোদ্ধা। এমন পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে ভয় বলে কিছু নেই। দায়িত্ব এলে তারা পিছিয়ে যায় না। ম্যাচের শেষ ১৫-২০ মিনিটেও তারা বল চাইতে থাকে। একজনের মনেও এই ভাবনা আসেনি যে ভুল করলে আমরা সেমিফাইনাল হারতে পারি।’
স্কালোনির মতে, এই আর্জেন্টিনা কেবল একটি দল নয়, একটি পরিবার। তিনি বলেন, ‘ওরা পরিবারের মতো। একটি বলও প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিতে চায় না। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই করে। আমরা অবশ্যই ফাইনাল জেতার চেষ্টা করব। কিন্তু সত্যি বলুন তো, এই দলটার আর কী করা বাকি আছে?’