মেসি-ইয়ামালের বিখ্যাত ছবিটির পেছনের গল্প যেমন
ক্যাম্প ন্যু-তে শিশু ইয়ামাল ও লিওনেল মেসি। ছবি: জোয়ান মনফোর্ট/ এপি
এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়া
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫৫ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৪:০১
সময়টা ২০০৭ সাল। বার্সেলোনার ২০ বছর বয়সী সুপারস্টার লিওনেল মেসি ক্যাম্প ন্যু-এর খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম থেকে নীরবে বেরিয়ে পাশের আরেকটি কক্ষে ঢুকলেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন একজন আলোকচিত্রী। চারদিকে টেস্ট ফ্ল্যাশ জ্বলতে লাগল আর উপস্থিত সবার চোখ গিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনার সুপারস্টারের ওপর।
তবে মেসির চোখ গেল এক কিশোরি মা ও তাঁর কোল আলো করে থাকা ছোট্ট এক শিশু সন্তানের দিকে। শিশুটির মা শিলা ইবানা তখন মাত্র ১৬ বছর বয়সী। যার আদি নিবাস ছিল একুয়াটোরিয়াল গিনিতে। স্পেনের কাতালোনিয়ায় ওয়েট্রেস (হোটেল বা রেস্তোরাঁর কর্মী) হিসেবে কাজ করার সময় তিনি মরক্কোর বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এরপর তাদের কোলে আসে শিশুটি।
সেদিন ক্যাম্প ন্যু-তে আসার আগে শিলা তাঁর শিশু সন্তানের নামে ইউনিসেফের একটি লটারিতে অংশ নিয়েছিলেন। বিজয়ী হওয়ার পর মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার সুযোগ পান। শিলার সেই শিশু সন্তান আর কেউ নন, বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি মেসির মুখোমুখি হবেন।

মেসি ও ইয়ামালের বিখ্যাত এই ছবিটির সাক্ষী ছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। তিনি বলেন, বার্সার একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ক্যাম্প ন্যু-তে ছবি তোলার জন্য তারা (শিলা ও ইয়ামাল) লটারির টিকিট কেটেছিল। সৌভাগ্যবশত সেই লটারিতে জিতে যায়।’
ছবিটি তোলা হয়েছিল ক্যালেন্ডারের জন্য। মনফোর্ট বলেন, মেসি খুব অন্তর্মুখী আর লাজুক প্রকৃতির মানুষ। তিনি ড্রেসিংরুম থেকে বের হয়ে আরেক রুমে যাওয়ার পর দেখেন প্লাস্টিকের পানির টবে একটি শিশু বসে আছে। মেসি শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন তাও বুঝতে পারছিলেন না।
সেদিনের পর ছবিগুলো নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু ২০২৪ সালে ইয়ামালের ইউরো অভিষেকের সময় ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো পোস্ট করেন তাঁর বাবা। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।’
মনফোর্ট বলেন, ইয়ামালের বাবা ছবিগুলো পোস্ট করার আগে তিনি জানতেনই না যে, সেদিনের শিশুটি বড় হয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। এমন একটা আলোড়ন সৃষ্টি করা ঘটনার সাক্ষী হতে পারাটা সত্যিই দারুণ। এটি চমৎকার এক অনুভূতি।