বাগান করা কি মস্তিষ্কের তারুণ্যতা ধরে রাখতে পারে
বারান্দায় ছোট্ট বাগান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২৪
দীর্ঘদিন ধরেই বাগান করাকে মানসিক চাপ কমা, মন মেজাজ ভালো রাখা এবং শারীরিক কার্যকলাপের সাথে যুক্ত রাখা হিসেবে ধরা হয়। এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে আরও একটি বিষয়। গবেষণা থেকে জানা যায়, গাছের পরিচর্যায় সময় কাটানো স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পারে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখতেও সাহায্য করতে পারে।
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ককে এমন একটি অঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেন যা চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে বিকশিত হয়। নতুন নতুন দক্ষতা শেখা এবং দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করা স্নায়বিক সংযোগকে শক্তিশালী করে। বাগান করা স্বাভাবিকভাবেই এই প্রক্রিয়াকে কাজে লাগায়।
২০২৩ সালে ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এ প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে,অনেকের সাথে মিলে বাগান করা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতি ঘটায়। গবেষকরা এতে সামাজিক সংযোগের উন্নতিও লক্ষ্য করেছেন।
মানসিক চাপ এবং মস্তিষ্ক গভীরভাবে সংযুক্ত
মানসিক চাপের উপর ইতিবাচক প্রভাবের কারণে স্নায়ুবিজ্ঞানীদের কাছে বাগান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ ক্রমাগত মানসিক চাপে থাকে, তখন শরীর উচ্চ মাত্রায় কর্টিসল তৈরি করে। সময়ের সাথে সাথে, উচ্চ কর্টিসলের মাত্রা ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, উদ্বেগ, বিষন্নতা তৈরি করে। স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে,বাগান করা এই চক্রটিকে ব্যাহত করতে ভূমিকা রাখে। গাছ লাগানো, পানি দেওয়া, ছাঁটাই করা, এমনকি শুধু সবুজ প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করার মতো কাজগুলো মস্তিষ্ককে ক্রমাগত মানসিক চাপ থেকে দূরে সরে যেতে উৎসাহিত করে। গবেষকদের মতে,প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো মনের একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বয়সের সাথে সাথে বাগান করা কেন আরও জরুরি
ক্রসওয়ার্ড পাজল বা স্মৃতিশক্তির খেলার মতো নয়, বাগান করার জন্য মস্তিষ্ককে একই সাথে বিভিন্ন দক্ষতা ব্যবহার করতে হয়। যেমন-আগে থেকে পরিকল্পনা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, সমস্যার সমাধান করা, দৈনন্দিন কাজ মনে রাখা, নড়াচড়া সমন্বয় করা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়। পুরো-মস্তিষ্কের সম্পৃক্ততার কারণেই অনেক স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বয়স্কদের শুধুমাত্র ব্রেন-ট্রেনিং অ্যাপের উপর নির্ভর না করে অর্থপূর্ণ শখের সাথে জড়িত থাকতে উৎসাহিত করেন।
বড় জায়গার প্রয়োজন নেই
বাগান করার জন্য সব সময় যে বড় জায়গার প্রয়োজন তা নয়। বারান্দায় কিছু ভেষজ গাছ, জানালার কাছে কয়েকটি ফুলের টব,এমনকি ঘরের ভেতরের গাছের যত্ন নেওয়াও এমন অনেক অভ্যাস তৈরি করতে পারেন- যা মস্তিষ্ককে সচল রাখে। অবশ্যই, বাগান করা স্মৃতিভ্রংশ বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কোনো চিকিৎসা নয়। এটি চিকিৎসা সেবা, ব্যায়াম, ঘুম বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে , স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলোর পাশাপাশি এটিও যোগ করা যেতে পারে। বাগান করার উপকারিতা হলো, এটি আপনার চিন্তা করা বন্ধ করতে না বলেই গতি কমিয়ে আনতে বলে। আর আপনি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করেন, মানিয়ে নেন, মনে রাখেন এবং নতুন কিছু শেখেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
- বিষয় :
- বাগান