মানসিক জড়তা কাটাতে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ব্রেইন ফগের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ছবি: বিবিসি
বিবিসি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪২ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৯
ব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে অনেকেরই মনোযোগ কমে যায়, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং চিন্তা করতে সময় লাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থাই ব্রেইন ফগ বা মানসিক জড়তা নামে পরিচিত।
চিকিৎসক ও ‘মর্নিং লাইভ’-এর বিশেষজ্ঞ ডা. থারাকা বলেন, ব্রেইন ফগ কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়। এটি মনোযোগের ঘাটতি, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং চিন্তার গতি কমে যাওয়ার মতো কয়েকটি উপসর্গের সমষ্টি। মেনোপজ, পেরিমেনোপজ, লং কোভিড, লুপাসসহ কিছু শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন
ডা. থারাকার মতে, ব্রেইন ফগ হলে নিজেকে দোষারোপ করা উচিত নয়। এটি ব্যক্তিগত ব্যর্থতার লক্ষণ নয়; বরং মস্তিষ্কের অতিরিক্ত চাপ বা ক্লান্তির প্রকাশ। কাজের গতি কিছুটা কমানো, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অন্যের সহায়তা নেওয়া উপকারী হতে পারে।
নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করলে মস্তিষ্কের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ কমে। সকালে ও রাতে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা, আগের রাতে পোশাক বা সকালের নাশতার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ছোট ছোট সিদ্ধান্তের চাপ কমিয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কাজের ফাঁকে বিরতি নিন
একটানা কাজ করলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না। তাই কাজের মাঝে অল্প সময়ের বিরতি নেওয়া জরুরি। কয়েক মিনিট হাঁটা, স্ট্রেচিং করা, পানি বা কফি পান করা কিংবা কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকাও মানসিক চাপ কমাতে এবং পরবর্তী কাজে মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক।
ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডার ব্যবহার করুন
সবকিছু মনে রাখার চেষ্টা না করে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. থারাকা। গুরুত্বপূর্ণ কাজ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা বিল পরিশোধের সময় ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডারে সংরক্ষণ করলে মানসিক চাপ কমে এবং ভুলে যাওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
সোয়ানস পদ্ধতিতে যত্ন নিন মস্তিষ্কের
দৈনন্দিন জীবনের এই ব্যবহারিক কৌশলগুলোর পাশাপাশি, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে ডা. টি উদ্ভাবিত সোয়ানস পদ্ধতিটি অনুসরণের পরামর্শ দেন। এই শব্দটির প্রতিটি অক্ষর একটি করে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ইঙ্গিত দেয়, যা মনের জড়তা বা অস্পষ্টতা দূর করে মস্তিষ্ককে সর্বোত্তম কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে:
ঘুম: প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং স্মৃতি সুসংহত করতে সাহায্য করে।
পানি: শরীরে পানির ঘাটতি মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
শারীরিক কার্যকলাপ: হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে চিন্তাশক্তি উন্নত করে।
পুষ্টি: ডিম, মাছ, বাদামসহ কোলিনসমৃদ্ধ এবং পুষ্টিকর খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও একাগ্রতা বাড়াতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপ: দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করতে পারে। তাই শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মাইন্ডফুলনেস এবং পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার মাধ্যমে চাপ কমানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ব্রেইন ফগের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- বিষয় :
- মানসিক চাপ
- বিশেষজ্ঞ মত