ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

অল্প সময়েই সরকারকে ব্যর্থ বলা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি

অল্প সময়েই সরকারকে ব্যর্থ বলা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি
×

মির্জা ফখরুল ইসলাম

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন সরকারের মেয়াদ পাঁচ মাস না যেতেই ব্যর্থ তকমা দেওয়াকে রাজনৈতিক-সামাজিক অসহিষ্ণুতা হিসেবে মনে করছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা তো একটুতেই অস্থির। আজকে পাঁচ মাসও হয়নি, এই সরকারকে এখনই বলছি যে সরকার ব্যর্থ। এটা আসলে ভীষণ অসহিষ্ণুতা।

মন্ত্রী আরও বলেন, অল্প সময়েই সরকারকে ব্যর্থ বলা, রাজপথে নেমে অস্থিরতা তৈরি করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি। যারা বলছেন, সরকারকে পাঁচ বছর পার করতে দেবেন না, তারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন। শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে তাদের কথার কোনো পার্থক্য নেই। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিসিই) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ ও ব্যাংকিং খাতের সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত সরকার একটি গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানও করেনি। বরং তারা আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে এ খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শেষ হয়ে গেছে। সেগুলোকে এখন ঠিক করতেই সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র হলো মূলত এক ধরনের সংস্কৃতি। আমাদের চিন্তাভাবনা ও চলাফেরার মধ্যে এর প্রতিফলন না থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার ভয়াবহ রকম বেড়ে গেছে বলে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর মাধ্যমে মানুষের পুরো জীবনের অবদান এক মুহূর্তে নষ্ট করা হচ্ছে। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সত্য প্রকাশই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনো ধরনের সেল্ফ সেন্সরশিপ নয়, সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকার নয়, গণমাধ্যম, মালিক পক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান–সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন– যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফকরুল আলম কাঞ্চন, মাইটিভির প্রধান সম্পাদক মাহমুদ আল ফয়সাল, মোহনা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রাশেদুল হক, স্টার টেলিভিশনের সিইও মোকসেদুল করিম বাবু, এখন টেলিভিশনের সিইও আখতারুজ্জামান বাবু ও ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।
 

আরও পড়ুন

×