ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

ইতালির বিরুদ্ধে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জারি করল স্পেন

ইতালির বিরুদ্ধে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জারি করল স্পেন
×

সেউতায় সহায়তা নিতে সমুদ্রসৈকতে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত শত অভিবাসী। ছবি- গেটি ইমেজ

বিবিসি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৪ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২৫

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই ইউরোপীয় দেশ স্পেন ও ইতালির মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জেরে ইতালি থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে স্পেনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে মাদ্রিদ।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থা এক মাস বহাল থাকবে। এর এক সপ্তাহ আগে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের পর একই ধরনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছিল ইতালি। রোম জানিয়েছে, তাদের এ সিদ্ধান্ত অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে।

স্পেন শুক্রবার ইতালিকে আগামী রোববারের মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তবে ইতালি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনো ‘চূড়ান্ত নির্দেশ’ মেনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। ইতালির দাবি, স্পেনে প্রবেশ করা অভিবাসীদের কেউ যাতে পরবর্তী সময়ে ইতালিতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তির আওতায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।

স্পেনের সরকার অবশ্য ইতালির এ অবস্থানকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মাদ্রিদের যুক্তি, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের শেনজেন এলাকায় প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। ফলে তাদের কারণে ইতালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় তুলনামূলক ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইতালির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্পেন থেকে আগত ইতালীয় নাগরিকদের অতিরিক্ত তল্লাশির আওতায় রাখা হচ্ছে না। শেনজেন এলাকার বাইরের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে স্পেন থেকে ইতালিতে যাওয়া যাত্রীদের জন্য কয়েকটি বিমানবন্দরে আলাদা লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, স্পেনের নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইতালি থেকে আগত যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা পরীক্ষা করা হবে। ‘ক্রমাগত অনিয়মিত অভিবাসন চাপের’ কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্পেনের সরকার জানিয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে এ নিয়ন্ত্রণ আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।

সেউতায় গত সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করলেও তাদের বেশিরভাগকেই কয়েক দিনের মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো সেউতায় অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে অনেকেই খুব অল্প বয়সী।

মরক্কো থেকে নতুন করে আরেকটি বড় ঢল সেউতায় আসতে পারে এমন আশঙ্কা ছড়ালেও স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দফা অভিবাসী প্রবেশের কোনো পূর্বাভাস দেয়নি। স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং গত সপ্তাহের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তারা করছে না। 

সেউতায় এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেন একযোগে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার দাবি করেছেন, অপরাধী চক্রের ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। স্পেন সরকারও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছে।

এর আগে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সেউতা বা মেলিলায় যাওয়ার সময় সমুদ্র থেকে আটক অভিবাসীদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। এরপর থেকেই অভিবাসীদের মধ্যে সেউতায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

মরক্কো অবশ্য এ সংকটের জন্য স্পেনের আদালতের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছে। দেশটির এক সরকারি সূত্রের দাবি, আদালতের রায়ের কারণে অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কেন মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্পেন ও ইতালির পাল্টাপাল্টি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের শেনজেন এলাকার অবাধ চলাচল ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিরোধ আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×