ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল

বেপরোয়া চালক, ১৮ মৃত্যু

সাঈদ, ভৈরবীদের জীবনের গল্প সড়কেই থেমে গেল
×

বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকায় বাসচাপায় নিহত শ্রমজীবী মানুষের একজন ছিলেন আবু সাঈদ। শজিমেক মর্গের পাশে মরদেহের অপেক্ষায় স্বজন -সমকাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়ের বিয়ের দেনা দিনমজুরি করে শোধ দিতে চেয়েছিলেন আবু সাঈদ। বাউল গানের বড় শিল্পী হতে চেয়েছিলেন ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী। রেলস্টেশনে ফেরি করে পণ্য বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন আবুল হোসেন। তাদের এসব ইচ্ছা কোনো দিন পূরণ হবে না। বেপরোয়া বাস তাদের সঙ্গে আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আর আদরের সন্তান হারানো পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।  

গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া বাজার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কৃষি শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে সাতজন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৮ জন। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী। একই দিন বাগেরহাট সদর উপজেলার জয়গাছি-রঘুনাতপুরে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈকত (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। 

মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ হলো না 
দুই মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বর্গাচাষি আবু সাঈদ (৪৮)। বিয়ের সময় বেশ কিছু ধারদেনা করেছিলেন। তা শোধ করতে কয়েক দিন আগে বগুড়ায় এসেছিলেন কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে। কয়েক দিন কাজ করে যে টাকা জমা হয়েছে তা নিয়ে আর তিন দিন পর বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই একটি বাস আবু সাঈদের প্রাণ কেড়ে নিল। শজিমেক হাসপাতালের পেছনে মর্গের পাশে বসে বিলাপ করে এসব কথা বলছিলেন নিহত আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন। 

স্বজনরা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ দুই সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের কিছু জমিতে বর্গাচাষ করতেন। তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। তার ওপর দুমাস আগে মেয়ে শারমিনকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের সময় ধারদেনা করতে হয়েছে। তাঁর বড় সন্তান শামীম একটি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর কাজ করেন। তিন বছর আগে বিয়ে করে তিনি আলাদা থাকেন। আবু সাঈদের স্ত্রী রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী লোকলজ্জার কারণে এলাকায় শ্রমিকের কাজ করত না। এ জন্য বগুড়ায় গিয়েছিলেন। এখন আমার সব শেষ। দেনা কীভাবে শোধ হবে? আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

মাজারে গান গেয়ে ফিরছিলেন পেহেলী মাজারকেন্দ্রিক বাউল ও পীর-মুর্শিদি গান গাইতেন ইসরাত জাহান পেহেলী (১৮)। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মধ্যপাড়ার বাবুল মিয়া ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে তিনি। ৬ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথে ছাওয়াল পীরের মাজারে বাউল আসরে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আসর শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে ঘরে ফেরেন। এতে স্বজন, সুহৃদ-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. বাবুল মিয়া (৫০) মেয়ে পেহেলীকে নিয়ে সিলেট গিয়েছিলেন। তিনি আহত হয়ে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা সদরের চন্ডিবেড় মধ্যপাড়ার মেয়ে ইসরাত জাহান পেহলি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নদার রামপাশার বৈরাগীবাজার এলাকার ছাওয়াল শাহ (রহ.) মাজারে বাউল গানের আসরে যোগ দেন। আসরে উদীয়মান জনপ্রিয় এই শিল্পী দর্শক-শ্রোতার করতালি আর উপঢৌকন গ্রহণের মধ্য দিয়ে গীতিকার ও সুরকার পাগল হাসানের ‘গলার হার বানাইয়া দিমু, দিমু হাতের বালা’ গান পরিবেশন করেন। জীবনে লাল শাড়ির সঙ্গে মাথায় টিকলি, গলায় হার, হাতের বালা পরে সাজার আগে ভক্ত-শ্রোতাদের চোখের জলে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি দেন এই শিল্পী।

পেহেলীর মা রোজিনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল নিজেকে বাউল গানের বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল।’

দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন শোভা রায়
সিলেটের দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম রায় প্রিয়ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে হাছননগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা সপ্তমের স্বজন মুহিত রায় জানান, সপ্তম ও প্রিতম রায় দুই ভাই ছিল। প্রিতম বড়, সপ্তম ছোট। ১২ বছর আগে প্রিতম (১১) সুরমা নদী থেকে বল তুলতে গিয়ে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে। এখন দ্বিতীয় সন্তানকেও হারালেন মা শোভা রায়। দুই ছেলে হারানোর কষ্ট কীভাবে সইবেন তিনি। এ কথা বলেই মূর্ছা যান মুহিত। 

হাছননগরের বাসিন্দা সুমিত চৌধুরী জানালেন, সপ্তমের বাবা উত্তম রায় স্ত্রী শোভা, ছেলে সপ্তম, প্রিয়ম ও মেয়ে বৈশাখীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কোনোভাবে সংসার চলত। বড় ছেলেটি মারা যাওয়ার পর শোকে কাতর ছিলেন শোভা। টানাপোড়নের সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সিলেটের মহাজনপট্টির কাপড়ের দোকানে চাকরি নেন সপ্তম। এরপর বাবা-মা দুজনই অসুস্থ হলে সপ্তমই ছিল সংসারের ভরসা। কদিন আগেও সপ্তম তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বোনকে (বৈশাখীকে) পড়াশোনা করিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দেওয়াই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু বোনকে বিয়ে দেওয়া হলো না তাঁর। 
সপ্তমদের গ্রামের বাড়ি একসময় ছিল হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের বিরাট গ্রামে। ওখানে তাদের এখন কিছুই নেই। 

ভ্রমণে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে 
সিলেটে ঘুরতে গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা পাঁচ বন্ধু। কিন্তু বাড়ি ফিরেছেন চারজন। গতকাল সিলেটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম (৫৩)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও ঠিকাদার ছিলেন।

দুর্ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ নামে অন্য দুজন আহত হয়েছেন। জানা যায়, বুধবার সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আ. লতিফ সিলেট যান। উপজেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক জমরুত মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমাদের পরিকল্পনা ছিল সিলেটে ঘুরতে যাওয়ার। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আমরা পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বাসে রওয়ানা করেছিল। দুজন ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়েছিলাম। বিমানটি ছাড়ার আগে সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসি।’

মূর্ছা যাচ্ছেন হাফেজ আরমানের মা-বাবা
সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর বড় ছেলে আরমান শাহপরাণ (রহ.) মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়। ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানায় ছুটে যান তিনি। লাশ শনাক্তের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তারা।

আবুল হোসেনের আয়ে চলত পরিবার
নিহতদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। পেশায় ফেরিওয়ালা। সিলেট রেলস্টেশনে ফেরি করে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। বাসে ওঠার আগে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, জমানো টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তাঁর লাশ শনাক্ত করেন চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম। তিনি সমকালকে জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন আবুল হোসেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে মাতম চলছে। 

কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের বাসচাপা
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে এরুলিয়া বাজারে দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের হাট বসে। আশপাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন আসেন। অধিকাংশ দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা দিনে বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। কাজ শেষে রাতে স্থানীয় স্কুলের বারান্দায় তারা ঘুমান। তাদের সংখ্যা শতাধিক। গতকাল ভোরে শ্রমিকরা এরুলিয়া বাজারে রাস্তার ধারে কাজের সন্ধানে বসে ছিলেন। হঠাৎ ওই বাসটি শ্রমিকদের চাপা দেয়। 

নিহত সাতজন হলেন– গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুরের আবু সাঈদ (৪৮), নুর আলম (৪৫); জয়পুহোটের কালাইয়ের পার্বতীপুরের আনোয়ারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবির আমিরপুরের আমিরুল ইসলাম (৪৫), দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গুঘোলগাছির তাজিমুর রহমান (৪৭), বগুড়া সদরের ফাঁপোড় মধ্যেপাড়ার বেলাল হোসেন (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নারহট্ট এলাকার নুর মোহাম্মদ (৭০)। তারা কৃষি শ্রমিক ছিলেন। 

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকার পাঁচজন ১৪ দিন আগে এই এলাকায় আমন ধান রোপণের জন্য এসেছি। কাজের জন্য আজ (গতকাল) ভোরে এরুলিয়া এলাকায় অনেকে বসেছিলাম। হঠাৎ বাস এসে আমাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। আমরা চারজন কোনোমতে বাঁচলেও আমাদের সাথে থাকা তাজিমুর মারা গেছে।’

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘আহতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, চালক ঘুম ঘুম চোখে বাস চালাচ্ছিলেন। 

শজিমেক হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম আনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তিনি চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একই এলাকায় দুর্ঘটনা, এবার নিহত ৯
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে ৯ যাত্রী নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ যাত্রী।  একই সড়কের ১৩ মাইল নামক স্থানে ২০১২ সালে দুর্ঘটনায় তৎকালীন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার হোসেন শামীমসহ আটজন নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর একই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল। 

নিহতরা হলেন– বাউলশিল্পী কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ইসরাত জাহান পেহেলী ভৈরবী (১৭), নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল বাইপাস এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে জাইফা (৩), নগরীর মাহাজনপট্টির দোকান কর্মচারী সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফেজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯), একই জেলার বাঙ্গুরাবাজার থানার পীর কাশিমপুরের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ইমন।

বাসের যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকালে ঢাকার উদ্দেশে ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট ছেড়ে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওসমানীনগর এলাকার কাশিকাপন নামক স্থানে সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার সময় সংঘর্ষ হয় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাসের সাত যাত্রী মারা যান। 

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় শিশু জাইফা। চিকিৎসাধীন মারা যান দোকান কর্মচারী প্রীতম। বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বাবুল মিয়া ও হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম ফেরদৌসের অবস্থা গুরুতর।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে। 

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)

 

আরও পড়ুন

×