ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত হয়ে যাত্রা করল ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’

বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীভূত হয়ে যাত্রা করল ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৩ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৫৩

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর আওতায় গেজেট প্রকাশের পর প্রথম কর্মদিবসেই কার্যক্রম শুরু করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। রোববার নতুন এই প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড পরিচয় ও লোগোও উন্মোচন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন নতুন এই সংস্থাকে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ সহায়তা, নীতি সমন্বয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সক্ষমতা এক প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা হয়েছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সারা দেশের বিনিয়োগসংক্রান্ত সুযোগ ও সেবার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই সমন্বিত সহায়তা পাবেন।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়। বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্রে রেখে সরকারের কাজ আরও কার্যকরভাবে সাজানোই এর লক্ষ্য। আমাদের সক্ষমতাগুলো এক করে আমরা বিনিয়োগের পুরো পথে দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করতে এবং আরও সমন্বিত সহায়তা দিতে চাই।’

তিনি বলেন, পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও বড় ও শক্তিশালী দল হিসেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ নতুন অধ্যায় শুরু করছে।

বিনিয়োগকারীরা পাবেন এক জায়গা থেকে সেবা

নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চন ও অন্যান্য সরকারি সেবা আরও সহজে ও সমন্বিতভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আইনটিতে লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরকারি সেবা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে পাওয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধির পথে বাধা দূর করতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে।

সংস্থাটি বাংলাবিজ পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগসেবার একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

নতুন কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনের ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো কার্যকর করতে কাজ করছে। দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পিপিপিতে নতুন সুযোগ

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং ঘোষিত অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রকল্প অনুমোদনের কাঠামো আরও স্পষ্ট করার পাশাপাশি ছোট আকারের পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ এসব এলাকায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পরিবহন অবকাঠামোর সংযোগ তুলনামূলক দ্রুত দেওয়া সম্ভব। তবে প্রকল্পের ধরন ও বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের প্রকল্পেও সহায়তা করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা থাকবে

বিডা, বেজা ও পিপিপিএর নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমমানের পদে ইনভেস্ট বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা ও বর্তমান সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে।

পরামর্শক, আউটসোর্সিং কর্মী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা তাদের বর্তমান চুক্তি বা আদেশের শর্ত অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবেন।

আইনের আওতায় বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলোকে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সেবা এবং ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদনের অনলাইন প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারণ করা যাবে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্চে ঘোষিত ১৮০ দিনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সময়সীমা এখন শেষের দিকে। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
 

আরও পড়ুন

×