ইলিয়াস আলী গুম: উইং কমান্ডার সাইফুর কারাগারে
বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আদালতে তোলা হয়। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:০৮ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২২
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন। এদিন গুমের মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে জামিন চান আইনজীবী তাবারক হোসেন।
শুনানিতে তাবারক বলেন, ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন সাইফুর রহমান। তিনি একজন চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। এমনকি অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই আইনজীবী আরও বলেন, এ মামলায় তদন্তের জন্য যখনই সাইফুর রহমানকে প্রয়োজন হবে, তখনই সহায়তা করা হবে। তদন্তে বাধা সৃষ্টি হলে জামিন বাতিল করতে পারেন। তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিনের সুযোগ দেওয়া হোক।
এ পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সাইফের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। অতএব, তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সাইফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
পুর্বনির্ধরিত তারিখ অনুযায়ী এদিন সকালে বিমান বাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। গত ৯ আগস্ট তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফকে তার বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গুম হন সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- বিএনপি
- বিমান বাহিনী