ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে রেকর্ড ১০৯৭ রোগী

ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে রেকর্ড ১০৯৭ রোগী
×

ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৩৫

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৭ জন। এ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০২। চলতি বছরে একসঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে গত শনিবার ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ৯৯৬ জন ভর্তি হয়।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে এ বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৪৯ জন। মারা গেছেন একজন। বর্তমানে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৫১ জন।

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ২৪৩, বরিশালে ১২০, চট্টগ্রামে ১১৬, ময়মনসিংহে ৮১, রাজশাহীতে ৭৬, রংপুরে ৬ এবং সিলেটে ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৫৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৯৩ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩২ হাজার ১৯৮ জন।

ঢাকার বাইরে বাড়ছে সংক্রমণ

আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার ডেঙ্গুর বিস্তারের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির বড় অংশ এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে কোন কোন এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে এবং সামনে পরিস্থিতি কোথায় বেশি খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। ফলে বর্ষার শেষ সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, একসময় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব মূলত শহরকেন্দ্রিক থাকলেও নগরায়নের বিস্তারের সঙ্গে এটি এখন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলেও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, গ্রামেও এখন এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ বেড়েছে। দুই-তিন দশক আগে ঢাকার যেসব এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট ছিল, সেসব এলাকায় মানুষ ড্রাম বা বিভিন্ন পাত্রে পানি সংরক্ষণ করতেন। 

পুরান ঢাকা ও এলিফ্যান্ট রোডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব পাত্রে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতো। এখন শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিভিন্নভাবে পানি জমিয়ে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে এডিস মশার বিস্তারের সুযোগও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

×