চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু একশ ছাড়াল
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:২৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে টানা চার দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত এক দিনে ডেঙ্গুতে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে গতকাল এসব তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৭০। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ১৮০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৪ হাজার ৩৮৫ জন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে আগস্টে। ওই মাসে মারা গেছেন ৪৩ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে পাঁচ, জুলাইয়ে ৩৬, জুনে ১৩, মে মাসে এক এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ২৯৮ জন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪৬, চট্টগ্রামে ১৩৯, বরিশালে ১২১, রাজশাহীতে ১১৪ এবং ময়মনসিংহে ৮৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক একটি প্রবণতা রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এ বয়সসীমার আক্রান্তদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী।
তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। ১৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ। অর্থাৎ এই বয়সী মানুষেরাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা পুরুষদের বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি।
নারীদের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ স্থূলতা। মানুষের ওজন যত বেশি হয়, ডেঙ্গুর তীব্রতা তত বেশি হতে পারে। বাংলাদেশের নারীদের একটি বয়সের পর স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। এতে ডেঙ্গু তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
এবার ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি নাজুক বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, এবার ডেঙ্গুর সংক্রমণ রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে বেশি ছড়িয়েছে। কিন্তু এসব এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম প্রায় নেই।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের অভাবও বড় সমস্যা। সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলছে। ডেঙ্গু মোকাবিলার মধ্য দিয়ে তা শুরু করা উচিত। ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।