মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাশ ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৩
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাস ছেড়ে উঠে গেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতি। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
এক মামলায় এক আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপের আদেশের বিষয়ে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয় কমে গেছে।’
এ মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার এই মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ আর বসব না।’ এরপর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এজলাস ত্যাগ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে বিনয়ের সঙ্গে ওই জরিমানা মাফ করার আবেদন করছিলেন তিনি।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আমি প্রধান বিচারপতিকে বললাম, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আসলে আগের মতো মামলা শুনানি করা যাচ্ছে না। এ কারণে আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। একজন জুনিয়র আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপ করা অনেক বেশি হয়ে গেছে। উনাকে মাফ করে দেন। তখন প্রধান বিচারপতি বললেন, “আমি চিফ জাস্টিস হওয়ার পর কি আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে?’’ আমি ওনাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে আগে ১১ জন বিচারপতির একটা বেঞ্চ ছিল। তিনটা বেঞ্চ ছিল। তিনটা বেঞ্চে আমরা শুনতাম মামলা। একটা মামলা স্টে হলে...সেখানে শুনানি করতে পারছি না। এমনকি চেম্বার আদালতে স্টে করছে, তা হিয়ারিং করতে এক বছর লাগে। ওখানে কোনো মেনশন করা যায় না কেন এই মামলাটা ওপরে ছিল (কজলিস্টে) নিচে গেলে কেন এবং যেহেতু একটা বেঞ্চ, মানুষ দীর্ঘদিন থেকে ন্যায়বিচার পাচ্ছে না, মামলা শুনানি করতে পারছে না। মামলা হলে আইনজীবীদের ইনকাম হবে। কম হোক বেশি হোক। আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে বললাম। আমি চিন্তা করিনি যে উনি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। ওনারা তো রাগ অভিমানের ঊর্ধ্বে বিচার করার কথা। আর আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমার অবলিগেশন আছে, ওনার কাছে আইনজীবীদের পক্ষে আবেদন করার।’
এদিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এভাবে এজলাস ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে।
এর আগে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের কথায় রুষ্ট হয়ে এজলাস ছেড়ে উঠে যান প্রধান বিচারপতি।
যে মামলায় জরিমানা
নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ সংক্রান্ত একই ঘটনায় একাধিক রিট মামলা করায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে রিটকারী মো. নুর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে দিতে বলা হয়েছে। নুর আলমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপর নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অনীক আর হক, সিনিয়র আইনজীবী মো. শিশির মনির ও আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।
- বিষয় :
- সুপ্রিম কোর্ট
- প্রধান বিচারপতি
- আপিল বিভাগ