ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হঠাৎ শুরু হওয়া নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার, লঞ্চ চলাচল শুরু

হঠাৎ শুরু হওয়া নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার, লঞ্চ চলাচল শুরু
×

আকস্মিক এ ধর্মঘটে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ জনপদের সব গন্তব্যে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়- ফোকাস বাংলা

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪৮

হঠাৎ শুরু হওয়া নৌযান ধর্মঘট কয়েক ঘণ্টা পরই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফের শুরু হয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। অবসান ঘটেছে যাত্রীদের আকস্মিক দুর্ভোগের। তবে পণ্যবাহী নৌযানে কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

নৌযান শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ এবং জাতীয় নৌযান শ্রমিক লীগের ১৫ দফা দাবিতে  বুধবার সকাল থেকে সংগঠন দুটি এই ধর্মঘট শুরু করেছিল। আকস্মিক এ ধর্মঘটে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ জনপদের সব গন্তব্যে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৮টায় গ্রিনলাইনের লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর আর কোনো লঞ্চ ছাড়েনি। এতে তীব্র দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে দুপুর দেড়টার দিকে এই ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। এ প্রসঙ্গে নৌযান শ্রমিক লীগের সভাপতি ওমর ফারুক দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বাস ও চরমোনাইর পীর সাহেবের মাহফিলের কথা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীবাহী নৌযানের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মালবাহী নৌযানে কর্মবিরতি চলবে।

শ্রমিক লীগের এই ঘোষণার পর দুপুর দেড়টায় চাঁদপুরগামী এমভি ময়ূর-৭ লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যায়। পরে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক মো. সেলিম জানান, যাত্রাবাহী লঞ্চের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন ঘাট থেকে আসা লঞ্চ সদরঘাটে ভিড়তে শুরু করেছে।

এই ধর্মঘটের আগেই আগামী ২৯ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকে সারাদেশে সব ধরনের নৌযান শ্রমিকদের লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন নামের আরেকটি সংগঠন। সব নৌ-শ্রমিককে গেজেট মোতাবেক বেতন প্রদান ও ঢাকা নদীবন্দরকে সন্ত্রাসমুক্ত করাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে এই কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। তবে এর আগেই জাতীয় শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও জাতীয় নৌযান শ্রমিক লীগের আকস্মিক ধর্মঘট ডাকার পেছনে মালিকদের উস্কানি রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, ১১ দফা দাবিতে ৩০ নভেম্বর থেকে তাদের ধর্মঘট শুরুর কর্মসূচি রয়েছে। মালিকদের উস্কানি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রমিকরা তাদের ওই কর্মসূচি নষ্ট করার জন্য এ ধর্মঘট ডেকেছে।

নিয়োগপত্র, ভাতা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাসহ ১১ দফা দাবিতে গত জুলাই মাসে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছিল বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন। পরে নৌ-অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর সংগঠন দুটি ওই ধর্মঘট স্থগিত করে। তবে ১২ নভেম্বর এক সমাবেশ থেকে ১১ দফা আন্দোলন বানচালের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা সদরঘাট এলাকায় শ্রমিক ও নেতাকর্মীদের ওপর উপর্যুপরি সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে দাবি করে আগামী ২৯ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে সব ধরনের নৌযান শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×