ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অলৌকিক ঘটনা’: নেপালের টানেল থেকে যেভাবে উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক

‘অলৌকিক ঘটনা’: নেপালের টানেল থেকে যেভাবে উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক
×

দুজনকে জীবিত পাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার নেপালের ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। ছবি: সিএনএন

এএফপি

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৭

কোনো সাড়া না পাওয়ায় নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা প্রায় ফিকে হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার দুজন উদ্ধারের পর এটিকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলছেন উদ্ধারকর্মীরা। এখন তারা অন্যদের খুঁজে পাওয়ার বিষয়েও আশার আলো দেখছেন।

জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছেন, যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশাও আছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা আশা হারাইনি।

এই উদ্ধার অভিযানে অস্ট্রেলিয়া থেকে পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর্নল্ড ডিক্স। তিনি বলেন, সপ্তাহের ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির পর উদ্ধারকারীরা অলৌকিকতার মুখোমুখি হয়েছেন।

আর্নল্ড বলেন, ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা উদ্ধারকারী দলটি টানেলের ভেতর থেকে ক্ষীণ একটি সাড়া পেয়েছিল। ভেতর থেকে কেউ একজন বলে উঠেছিল ‘হুঞ্চা’ বা ঠিক আছে। এর জবাবে উদ্ধারকারীরা চিৎকার করে বলে, ‘চিন্তা করবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করছি।’ 

উদ্ধারের সময় প্রার্থনার ভঙ্গিতে এক শ্রমিক। শুক্রবার নেপালের রসুয়া জেলায়। ছবি: এএফপি

আর্নল্ড ডিক্স জানান, টানেলের ভেতরের পথ বন্যার ধ্বংসাবশেষ দিয়ে আটকে ছিল। উদ্ধারকারী দলটি ৫০ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত খনন করে এগিয়ে যায়। তারা যেকোনো মুহূর্তে সাফল্য পাওয়ার আশায় ছিল। সেটিই হয়েছে। সাড়া পাওয়ার পর এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দুজনকে জীবিত অবস্থায় বাইরে এনেছে। 

বর্তমানে ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় আরও শ্রমিককে উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে। ডিক্স বলেন, এ কাজে যোগ দিতে তিনি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ২০২৩ সালে হিমালয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়ক টানেল ধসের পর ৪১ ভারতীয় শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন। সে উদ্ধার অভিযানেও পরামর্শক ছিলেন আর্নল্ড ডিক্স।

বন্যায় নেপালের অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোর টানেলে ১০০ জনের মতো শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকে আছেন বলে ধারণা করছে সরকার। ত্রিশূলী ৩এ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় শাহ ও কবির মহার্জন। 

কবিরকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর আত্মীয় লক্ষ্মী নাইনি বলেন, ‘এটা অলৌকিক ঘটনা। আমি খুব খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বেঁচে থাকার খবর শুনেছি। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

আরও পড়ুন

×