ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গতিহীন, জেদহীন ফুটবলে সিরিয়ার সামনে আত্মসমর্পণ

গতিহীন, জেদহীন ফুটবলে সিরিয়ার সামনে আত্মসমর্পণ
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৪

কুড়ি বছর বয়সটা নাকি ঝড়ের বেগে এগিয়ে যাওয়ার, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও মরণকামড় দেওয়ার। কিন্তু মাঠে যারা লাল-সবুজের জার্সি পরে নামল, তাদের দেখে মনে হলো যৌবনের সবটুকু তেজ যেন মাঠের বাইরেই ফেলে এসেছে! উজবেকিস্তানের তাসখন্দে সিরিয়ার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের ফুটবল শুধু ৩-০ গোলে হারলই না, আক্ষরিক অর্থেই এক চরম ‘কুৎসিত’ ফুটবলের প্রদর্শনী মেলে ধরল। বল রিসিভ করতে গিয়ে পায়ে জড়ানো, ভুল পাসের মহড়া, আর রক্ষণভাগের ফুটবলারদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের চোখ বিষিয়েছে। 

যেখানে মাঠে দেখার কথা ছিল বারুদঠাসা গতি আর জেদ, সেখানে একদল শ্লথ, লক্ষ্যহীন তরুণের ছায়া দেখা গেল। ডি-বক্সের সামনে ফাহিমের মতো অধিনায়ককে সতীর্থকে পাস না দিয়ে একা একা সস্তা নায়কোচিত শট নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গেল, তা আধুনিক ফুটবলের ব্যাকরণকেই অপমান করে। মন ভালো করা ফুটবল তো দূর অস্ত, এই পারফরম্যান্সের পর এশিয়া কাপের মূল পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেল। রোববার শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে এর চেয়ে কিছুটা ভালো খেললেই তা হবে বড় পাওয়া।

এদিন পুরো ম্যাচে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাংলাদেশের গোলমুখে ১৮টি শট নেয় সিরিয়ার ছেলেরা, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বাংলাদেশ শট নিতে পেরেছে মাত্র তিনটি, তবে কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। বাংলাদেশও ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ৩৮ মিনিটে রিয়াদ ফাহিমের কোনাকুনি শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন সিরিয়ার গোলরক্ষক ইসমাইল হাদি। এরপর ৪৪ মিনিটে গোল হজম করে বাংলাদেশ। আব্দুল্লাহ আল নাজারের ব্যাকপাসে বক্সের বাইরে থেকে মাটি কামড়ানো শটে জাল কাঁপান সিরিয়ার মিডফিল্ডার আলান মামো। 

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে মারিওস আলহেরেক ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২ মিনিটের মধ্যে দুটি গোলেই গা ছাড়া ডিফেন্সের ভুল ছিল। শেখ সংগ্রামের মতো ফুটবলারদের সামনে থেকে ছোঁ মেরে বল নিয়ে যায় সিরিয়ানরা। এহসান মল্লিকদের মতো ফরোয়ার্ড নিচে নেমে এসেও পাসিং আর বল রিসিভিংয়ে ভুল করেন বারবার। অ্যাডাম আব্বাসের কাছেও প্রত্যাশা ছিল অনেক, কিন্তু এই ফরোয়ার্ড এদিন আগের ম্যাচের চেয়ে বেশি বল পেলেও যোগ্য সতীর্থের অভাবে ভুগেছেন।

৭০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নাজমুল হুদা ফয়সাল। ৭৩ মিনিটে আমের আম্মারের ফ্রি-কিক এবং ৮৫ মিনিটে মামোরের শটও ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। রক্ষণে জিদান ইউসুফও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তাদের প্রচেষ্টাতেই বড় ব্যবধানে হার এড়ানোর আশা কিছুটা টিকে ছিল বাংলাদেশের। ৮৮ মিনিটে ফাউল করে সিরিয়াকে ফ্রি-কিকের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ। ১ মিনিট পর সেই সেট-পিস থেকেই আসে তৃতীয় গোল। গোলরক্ষক ও দুজন ডিফেন্ডার পোস্ট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও এতটুকু বুঝতে পারেননি বলটি গড়িয়ে তাদের পাশ দিয়েই গোলপোস্টে যাচ্ছে!

আরও পড়ুন

×