ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যাচ ফি বাড়ায় স্বস্তি ক্রিকেটারদের

ম্যাচ ফি বাড়ায় স্বস্তি ক্রিকেটারদের
×

ছবি- বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২২

তামিম ইকবাল অন্তর্বর্তী কমিটির সভাপতি হয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি ৭৫ হাজার টাকাকে উন্নীত করেন এক লাখে। এবার মৌসুম শুরুর আগে ম্যাচ ফি আরও বাড়িয়ে করা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মতো ওয়ানডে ও টি২০ ম্যাচ ফিও বেড়েছে শতভাগ। বিসিবি সভাপতি তামিম জানান, এনসিএল ও বিসিএল (নতুন নামকরণ হবে) তিন সংস্করণে খেলে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন একজন ক্রিকেটার। যেটা ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা দেবে বলে জানান তিনি।

এ বছর বিপিএল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ক্রিকেটাররা। আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো কোনো পথ দেখছিলেন না। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) কর্মকর্তারা নিজেদের উদ্বেগের জায়গা তুলে ধরেছিলেন বিসিবি সভাপতির কাছে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফোনে সমকালকে বলেন, ‘বিপিএলে না হওয়ায় দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। ঢাকা লিগের ক্লাবগুলোও আগের মতো সাপোর্ট করে না ক্রিকেটারদের। অনেক দিন ধরেই ক্রিকেটারদের দাবি ছিল আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। কারণ ক্লাব ক্রিকেট আর বিপিএল এখন অনিশ্চিত ক্রিকেট। সেখানে জাতীয় লিগ ও বিসিএল বোর্ডের টাকায় হয়। এ দুই লিগে খেললে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। এ কারণে স্থায়ীভাবে ম্যাচ ফি, বেতন ও সুযোগসুবিধা বাড়ানোর দাবি ছিল। বিসিবির বর্তমান কমিটির কার্যক্রম ক্রিকেটারবান্ধব। তারা দ্রুত ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালনা পর্ষদকে ধন্যবাদ জানাই।’

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড সভাপতি তামিম বলেন, ‘কোয়াবের পক্ষ থেকে কিছু দাবিদাওয়া তোলা হয়। সেখান থেকে ভারসাম্য করে সম্মানজনক একটি ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এনসিএল ও নতুন টুর্নামেন্ট মিলে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ বাড়বে। লিস্ট-এ ম্যাচও বাড়ছে, টি২০ ম্যাচ মোটামুটি ঠিক থাকবে। লিগ ও টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি প্রায় শতভাগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে যে খেলবে, সে দেড় লাখ টাকা পাবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০ হাজার টাকা ছিল, ওটা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। আর টি২০ টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার করা হয়েছে।’

বিসিবি সভাপতি জানান, বিপিএলে না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে নয়, ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ম্যাচ ফি বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির দাবি, ‘এটা করাতে যেটা হলো এখন একজন ক্রিকেটার মৌসুমে বেতনসহ ৩৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা উপার্জন করবে। ১২ দিয়ে ভাগ করলে একজন ক্রিকেটারের মাসিক আয় হবে ৩ লাখ টাকার বেশি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি পরিবার চালাতে পারবে।’ ছেলেদের পাশাপশি মেয়েদের ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বেড়েছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি। মেয়েদের তিন দিনের ম্যাচ চার দিন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। 

নারী ওয়ানডে ৩০ হাজার আর টি২০ ম্যাচ ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে গতকাল। জাতীয় লিগের নিয়মিত ক্রিকেটার ও কোয়াব নেতা মার্শাল আয়ুব ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, ‘বিসিবির বর্তমান কমিটিকে সাধুবাদ, তারা ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তার দিকটি দেখছে। ম্যাচ ফি বাড়ানো ভালো সিদ্ধান্ত। এনসিএল খেলে অন্তত ১০ লাখ টাকা উপার্জন করতে পারেন একজন ক্রিকেটার। আপনারা জানেন লিগের প্রস্তুতির জন্যও একজন খেলোয়াড়কে এক লাখ টাকা খরচ করতে হয় ফিটনেস ট্রেনার, জিম, মাঠ ভাড়া মিলিয়ে। সেখানে সম্মানজনক রোজগার না হলে ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। কারণ ঢাকা লিগে আগের মতো টাকা নেই। হাতেগোনা কয়েকটি ক্লাব ভালো দল গড়ে এবং ক্রিকেটারদের সম্মানী দেয়। এই বিষয়টি ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে অনিরাপদ করেছে। তাই জাতীয় লিগ, বিসিএলের মতো ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেটা করায় বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালকে ক্রিকেটাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।’ 

সংবাদ সম্মেলনে তামিম নিজেও জানান, ক্রিকেটারদের স্বার্থ দেখা বোর্ডের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন

×