সিরিয়ার কাছে তিন গোলের হার বাংলাদেশের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৭
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তাসখন্দের ডসিটিলক স্টেডিয়ামে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে জেরার্ড জোন্সের দল। এর আগে উজবেকিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশের যুবারা। ফলে দুই ম্যাচে পয়েন্টশূন্য থেকে মূল পর্বে ওঠার আশা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দলের কৌশল ও প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সের সামর্থ্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাঁচা-মরার ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চড়াও ছিল সিরিয়া। আক্রমণের চাপ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণকে। প্রথমার্ধেই সেই চাপের ফল পেয়ে যায় সিরিয়া। ৪৪তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মুস্তফা শেখ ইউসুফের বাড়ানো লম্বা থ্রু পাস বাংলাদেশের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করে। আবদুল্লাহ আলনাজারের ব্যাক পাস পেয়ে বেলাল আল মুসল ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সিরিয়া। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। বরং বিরতির ঠিক আগে আবারও বাংলাদেশের রক্ষণে আঘাত হানে সিরিয়া। আল হেরেকের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে হলে আক্রমণে গতি ও ধার বাড়ানো জরুরি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মাঠের চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং সিরিয়ার আক্রমণেই বারবার ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণকে। এডাম আব্বাসও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার কাছ থেকে কার্যকর আক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়নি।
৭০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নাজমুল হুদা ফয়সাল। সেই ফ্রি-কিক থেকে আলমেরির দুর্দান্ত শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী। এরপর আলমেরির নেওয়া কর্নার থেকেও বিপদ তৈরি হয়। সিরিয়ার চাপ সামলাতে গিয়ে বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণ। এই সময়ে জিদান ইউসুফের পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মুহূর্তে তার দৃঢ়তায় বিপদমুক্ত হয় দল। গোলরক্ষক রাজ চৌধুরীও কয়েকটি ভালো সেভ করে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি।
তবে শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার তৃতীয় গোল ঠেকানো যায়নি। ৮৮ মিনিটে ফাউল করে আবারও সেট-পিসের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ। সেখান থেকেই সুযোগ কাজে লাগায় সিরিয়া। আবদুল্লাহ আলনাজারের নিচু শট ডি-বক্সে পেয়ে আলতো টাচে বল জালে পাঠান আল সাররাজ। তাতে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। দুই ম্যাচে দুই হার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন গ্রুপের তলানিতে। অন্যদিকে দুই ম্যাচে এক জয় নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে সিরিয়া। উজবেকিস্তান ও ভারত রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।
ফলে বাছাইপর্বে কঠিন অবস্থায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। মূল পর্বে যাওয়ার দৌড় থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে যুবাদের দল। বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের পেছনে মাঠের বাইরের অস্বস্তিকেও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রস্তুতি ক্যাম্প চলাকালে প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর বিরোধ এবং পরবর্তী সময়ে হাতাহাতির ঘটনা সামনে এসেছিল। এমন পরিস্থিতি দলের প্রস্তুতি ও পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
এর সঙ্গে ছিল আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতি। বাছাইপর্বের আগে বাংলাদেশ আর্মি ও ফর্টিস এফসির বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে গ্রুপের অন্য দলগুলো তুলনামূলক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাছাইপর্বে এসেছে।