ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের গণশুনানি

জীবন-জীবিকার ক্ষতি করে উন্নয়ন প্রকল্প নয়

জীবন-জীবিকার ক্ষতি করে উন্নয়ন প্রকল্প নয়
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:০২

উন্নয়ন যদি জনগণের স্বার্থে হয়, তাহলে জীবন ও জীবিকার স্বার্থহানি যাতে না ঘটে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ। আগামীতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জীবন ও জীবিকাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে মঞ্চ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত 'উন্নয়ন, উচ্ছেদ, মানবাধিকার ও পরিবেশ বিপর্যয়' শীর্ষক গণশুনানিতে এমন অনুরোধ জানানো হয়।

প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের আদালতে শনিবার তিনটি বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণ ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। তিনটি বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেন মঞ্চের কাছে। জুরি বোর্ডে ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার ও উন্নয়ন কর্মী খুশী কবির।

মামলার সাক্ষীরা এসব প্রকল্পের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা তুলে ধরেন। মাতারবাড়ি প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, মাতারবাড়ি প্রকল্পের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে লবণ ও মৎস্য চাষ করা হতো। অধিগ্রহণের কারণে ওইসব এলাকার হাজার হাজার মৎস্য ও লবণ চাষি বেকার। তাদের কোনো কর্মসংস্থান করা হয়নি। এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় এখন আর সামুদ্রিক কচ্ছপ ও অন্যান্য প্রাণী দেখা যায় না। জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার নির্ধারিত ক্ষতিপূরণও তারা পাননি।

বিশেষজ্ঞ মত দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের উন্নয়ন তো জনগণের জন্য। কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়। মাতারবাড়ি প্রকল্পে ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে জমি অধিগ্রহণের পর।

এদিকে গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের কয়েকটি মৌজার ১৮৪২ একর আদিবাসীদের জমি চিনিকল প্রতিষ্ঠায় অতীতে অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। সময়ের পরিক্রমায় সেই চিনিকল বন্ধ হয়ে গেলে অধিগ্রহণকৃত জায়গার ইজারাদাররা সেখানে আখের পরিবর্তে অন্যান্য ফসল চাষ শুরু করে। চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের কাছে ওই জমি ফেরত প্রার্থনা করেন। সুবিধাভোগী একটি মহল সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব করে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা ফুঁসে ওঠেন। তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন-নিবেদন করেন জমি ফেরতের আশায়। ইতিমধ্যে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু ২০১৬ সালে পুলিশের সহায়তায় বসতিদের ওপর হামলা চালায় অসাধু চক্র। কয়েক মাস পর পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সহায়তায় কিছু লোক হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা ফুঁসে উঠলে পুলিশের গুলিতে তিনজন আদিবাসী মারা যান। জুরি বোর্ড এসব ক্ষতিগ্রস্তের জীবিকা ও মৌলিক অধিকারের জন্য বিবাদী পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×