'মিথ্যা তথ্য সরবরাহ'র প্রতিবাদে কুবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মানবন্ধন- সমকাল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৪:১৩
'মিথ্যা তথ্য সরবারহ'র প্রতিবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের 'বি ইউনিট' ভর্তি পরীক্ষায় তথ্য ফাস ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন শিক্ষক সমিতির নেতারা ।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী ওমর সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. শামিমুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, 'বি' ইউনিটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, প্রক্টর ড. কাজী মো. কামাল উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তার বক্তব্যে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আমাদের অহংকারের ও অস্তিত্বের। কখনও ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। গত কিছুদিন আগে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তাতে আমরা আশাহত। সিন্ডিকেটে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। '
শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, 'জাতির কাছে যে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। একটি গ্রুপকে হেয় করার জন্য তা করা হয়েছে। এ কুকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এ আশ্বাস যেনও অন্যসব আশ্বাসের মত ঝুঁলে না থাকে।'
৮ ও ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশিত হয়। তবে ভর্তি পরীক্ষার উপস্থিতির তালিকায় নাম না থাকলেও ফলাফলে সাজ্জাতুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীর ১২তম স্থান অধিকার করা নিয়ে সমকালে ‘ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েও মেধাতালিকায়!' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সংশ্লিষ্ট ‘বি' ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ‘বি' ইউনিটের প্রকাশিত ফলাফলে ১২তম হওয়া সাজ্জাতুল ইসলামের রোল ছিল ২০৬০৫০। যার ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কোটবাড়ির টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। ভুলক্রমে ও.এম.আর. শীটে তার এই রোল একই কেন্দ্রের ২০৬১৫০ রোলধারী মো. আলী মোস্তাকিন পূরণ করেন। মো. আলী মোস্তাকিন উত্তরপত্রে রোল নম্বর লেখার নির্ধারিত স্থানে সঠিক রোল লেখলেও বৃত্ত ভরাটের ‘১' এর স্থলে ‘০' ভরাট করেন। ঐ কক্ষের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকের অসর্তকতায় বিষয়টি ধরা না পড়ায় উত্তরপত্র ভুলভাবেই মূল্যায়িত হয়। যার ফলে ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো. আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তিনি রোল নম্বর ভুল লেখায় মেধাতালিকায় স্থান পায়নি। যার ফলে ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও মেধা তালিকায় স্থান পায়।
