ঢাকা রবিবার, ০৬ জুলাই ২০২৫

তিয়েনআনমেন স্কয়ার ট্রাজেডি: নিহতদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মোমবাতি প্রজ্বালন

তিয়েনআনমেন স্কয়ার ট্রাজেডি: নিহতদের স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মোমবাতি প্রজ্বালন

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মোমবাতি প্রজ্বালন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২১ | ১০:৩৩

১৯৮৯ সালের ৪ জুন চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে এ কর্মসূচি পালন করেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি রোমান হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন স্বাধীন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ ইউ জেড প্রিন্স প্রমুখ।

কর্মসূচিতে মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৮৯ সালের ৪ জুন চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকদের স্বজনদের কাছে চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। স্বজনদের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যান্য রাজনেতিক দলগুলোকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে চীনে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্বের সব রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকামী নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এছাড়া শিনজিয়াং প্রদেশে রাষ্ট্রীয় মদদে আটকে রাখা ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। চীনের নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সম্প্রতি চীনের ওপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণহত্যার জন্য চীন আজও পর্যন্ত অনুতপ্ত হয়নি, যা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ। চীনের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় তারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার জন্য চীনকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বলেন। তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্টে জন্মদিনের উপহার পাঠিয়েছিল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকীতে খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের উপহার পাঠানোর মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। চীন-পাকিস্তানের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র এখনও চলমান। এদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবে।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চীনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব শহীদকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। চীনে আজও পর্যন্ত গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি একটি স্বৈরতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে। এছাড়া জীবনবিধ্বংসী অস্ত্র করোনাভাইরাস ছড়ানোর অপরাধে আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন

×