ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সাবধান, ফেঁসে যেতে পারেন প্রেমের ফাঁদে!

সাবধান, ফেঁসে যেতে পারেন প্রেমের ফাঁদে!
×

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:২২

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্বের রিকোয়েস্ট পাঠাবে ওরা। এরপর ফ্রেন্ড হিসেবে গ্রহণ করলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে। নানা দিবসে পাঠাবে দামি উপহারও। কোনো সমস্যায় পড়লে অর্থ লাগবে কি-না তাও জানতে চাওয়া হবে। প্রয়োজনে টাকা পাঠিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব এভাবেই একসময় গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। আর এই সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এই চক্রে রয়েছে একাধিক নারী সদস্যও। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগ। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, গাজীপুরের এক কৃষক লীগ নেতাকে প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণার শিকার বানায় এক তরুণী। ১১ ডিসেম্বর টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন আরিচপুর এলাকার একটি বাসায় তাকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর ওই তরুণী সেখানে তার পরিচিত কয়েকজনকে ডেকে নেয়। তাদের মধ্যে ছিল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিঠু ও সোহাগ হোসেন বাবু। যে বাসায় তারা কৃষক লীগের ওই নেতাকে ডেকে নিয়েছিল সেটি হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী সীমা আক্তার দম্পতির। প্রতারক চক্রের চার সদস্য মিঠু, বাবু, সীমা ও কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সীমাও দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে প্রতারণার ফাঁদ পাততে সহায়তা করে আসছিল। ওই বাসায় নেওয়ার পর কৃষক লীগের ওই নেতাকে তরুণীর সঙ্গে অশ্নীল অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর প্রতারক চক্রের সদস্যরা জানায়, এই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ১০ লাখ টাকা না দিলে ছবিগুলো কৃষক লীগ নেতার স্বজনের কাছে পাঠানো হবে। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হন তিনি। নগদ টাকা দেওয়ার পর তাকে ওইদিনের মতো ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে চক্রের সদস্যরা যে ছবি তুলেছিল তা তাদের কাছে রেখে দেয়। কৃষক লীগের নেতাকে হুমকি দেওয়া হয়, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে।

সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের এডিসি আশরাফ উল্লাহ জানান, গাজীপুরের কৃষক লীগ নেতার সঙ্গে প্রতারণার এ ঘটনা জানার পর এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দুই লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে চক্রের মূল হোতা ওই তরুণী পলাতক। তাকে ধরতে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সীমা আক্তারের বরাত দিয়ে আশরাফ উল্লাহ জানান, এর আগে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়েছে সীমার বান্ধবী। নিজেদের বাসা ওই চক্রের সদস্যদের ব্যবহার করতে দেওয়ার বিনিময়ে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি অংশ তাকে দেওয়া হতো। কৌশলগত কারণে চক্রটির প্রধান এক তরুণীর নাম এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ওই তরুণী ঢাকায় বসেই দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরকেন্দ্রিক প্রতারক চক্রটি সক্রিয় রেখেছে। বছর দু'এক আগে সীমা এবং ওই তরুণী পাশাপাশি বসবাস করত। সেই সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। এরপর দু'জন প্রতারণায় জড়ায়।

তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা সাধারণত বয়স্ক ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে। অনেক সময় মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তারা প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে থাকে। কেউ প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে কোনো বাসায় আটকে রাখার ঘটনাও ঘটে। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়েও টার্গেট করা ব্যক্তিদের তুলে নেয়।

আরও পড়ুন

×