বেলজিয়ামের সামনে অদম্য ইরান
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১০:২৪
মেক্সিকোর তিজুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার। আকাশযোগে এক ঘণ্টার পথ। দুই দেশের বিমানবন্দরে আছে নানা ঝক্কি-ঝামেলা। এসব বাধা ডিঙিয়ে বিশ্বকাপ খেলছে ইরান। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ইরানকে ভ্রমণ ক্লান্তি, মানসিক চাপ সামলে ভালো খেলার প্রত্যয় দেখাতে হবে।
ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপ বিধিমালা অনুযায়ী, বেস ক্যাম্প থেকে ম্যাচের আগের দিন দলগুলোকে ভেন্যুতে আসতে হবে। সংবাদ মাধ্যমকে অনুশীলন কাভার করতে দেওয়া, ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন করতে হবে। থাকতে হবে ভেন্যুর কাছের বরাদ্দকৃত হোটেলে। তবে ম্যাচ শেষে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে, আবার দলগুলো চাইলে তাঁবুতে ফিরতে পারবে। এই নিয়ম ইরানের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। নতুন করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইরানিয়ানরা আশা করেছিল, এবার হয়তো ভ্রমণ ক্লান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। ইরান ফিফার কাছে নালিশ জানিয়েও ফল পায়নি।
ইরানের কোচ আমির ঘালেনয় জানিয়েছেন, তাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে তারা ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, ‘আমরা বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল। তারা (আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের জন্য পরিস্থিতি যতটা কঠিন করা যায় করছে। এখানে আমাদের ফেডারেশন নেই, মিডিয়া নেই, ম্যানেজমেন্ট নেই। এটি ফুটবলের জন্য ভালো নয়। তারপরও তারা আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা সেরাটাই খেলব।’
ইরানের উল্টো চিত্র বেলজিয়াম ক্যাম্পে। তাদের একেবারেই কম ভ্রমণ করতে হচ্ছে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে থিবো কর্তুয়া বলেন, ‘আমরা একটা হোটেলে সেটল হয়েছি। ভ্রমণ কম করতে হচ্ছে, যা দল ও আমাদের পরিবারের জন্য সুবিধা হচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বকাপে অনেক ভ্রমণ করতে হয়েছিল।’
বাধা অতিক্রম করে বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়ামকে পরীক্ষা নিতে চায় ইরান। পরীক্ষা দিতেও হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে শক্তি, র্যাঙ্কিং ও বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ফেভারিট ছিল এশিয়ার দেশ ইরান। কিন্তু দু’বার পিছিয়ে পড়ে কোনো মতে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল। ওই হিসাবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে আন্ডারডগ পার্সিয়ান লায়ন্সরা। তবে রক্ষণের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে, জয়ের চাপে থাকা বেলজিয়ামকে চেপে ধরতে পারলে সুযোগ তৈরি হবে ইরানের জন্যও।
বিশ্বকাপের বড় দলগুলোর মধ্যে তর্কসাপেক্ষে বেলজিয়াম সবচেয়ে সহজ গ্রুপে পড়েছে; যা তাদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়েছে। মিসরের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে কোনো রকমে সমতা পাওয়ায় ওই চাপও বেড়েছে। ‘ইরানের বিপক্ষে জিততেই হবে’ চাপ দলটির। অন্যদিকে গ্রুপের চার দলেরই পয়েন্ট সমান। সংবাদ মাধ্যম গোলের বিশ্লেষণ বলছে, রুডি গার্সিয়ার বেলজিয়াম আক্রমণাত্মক ফুটবলের পথে হাঁটবে; যা ইরানকে তাদের শক্তির জায়গা কাউন্টার অ্যাটাকে খেলতে সহযোগিতা করবে; যা দর্শকদের একাধিক গোল দেখার সুযোগ করে দিতে পারে। দুপুরে ম্যাচ হওয়ায় গরম থাকবে। কন্ডিশনের সুবিধা যাবে ইরানের পক্ষে।
কর্তুয়াও জানিয়েছেন তাদের ওপর জয়ের চাপ আছে, ‘বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই মহারণ। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচও ভিন্ন কিছু নয়। আমরা জিততে চাই এবং গ্রুপ সেরা হতে চাই। দুপুরে ম্যাচ খেলতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে সন্ধ্যার ম্যাচে আলাদা রিদম পাওয়া যায়।’
- বিষয় :
- ইরান
- বেলজিয়াম
- বিশ্বকাপ ফুটবল
