ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে ৪ 'জঙ্গি' গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি
ময়মনসিংহ ব্যুরো ও গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৪
গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্য এবং ময়মনসিংহ নগরীর দিঘারকান্দা এলাকা থেকে জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাব। বুধবার রাতে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গাজীপুরে গ্রেপ্তার আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা হলো- মারুফ বিল্লাহ ও মোতালেব হোসেন। থার্টিফার্স্ট নাইটে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। তারা গ্রেপ্তার হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ১০ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি নেতা নূর উদ্দিন শেখ তাদের এ পথে নিয়ে এসেছে বলেও দাবি করেছে তারা।
র্যাব আরও জানায়, সিরাজগঞ্জ সদরের ছোনগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের গাজী মিজানুর রহমানের ছেলে মারুফ এবং একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মোতালেব একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়ার সময়ই জঙ্গিনেতা নূর উদ্দিন শেখের হাত ধরে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেয়। ২০১৭ সাল থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে তাদের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ফেসবুকের মাধ্যমে ৬-৭টি গ্রুপ তৈরি করে প্রচার চালাত ও সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। নূর উদ্দিন শেখকে গ্রেপ্তারের পর সে মারুফ ও মোতালেবের বিষয়ে তথ্য দেয়। এরপরই র্যাব-১-এর গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাদের কাছ থেকে দুটি উগ্রবাদী বই, একটি ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহে দুই জঙ্গি গ্রেপ্তারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এফতেখার উদ্দিন জানান, বুধবার রাতে একদল লোক গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল নগরীর দিঘারকান্দা বাইপাস আকিজ পেট্রোল পাম্পের পেছনে একটি নির্মাণাধীন মসজিদের পাশে অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বৈঠকে আসা লোকজন দৌড়ে পালানোর সময় আয়াতুল্লা আল কাবির ও আবু আব্দুল্লাহ মো. সোয়াইব নামে দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল, কয়েকটি উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এবং বিভিন্ন মাজারে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
র্যাব কর্মকর্তা এফতেখার আরও জানান, আয়াতুল্লা আল কাবির নেত্রকোনার কলমাকান্দা পাইলট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে রুমডো মেডিকেল ইনস্টিটিউটের প্যাথলজি বিভাগে অধ্যয়ন করছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ল্যাপটপ ও মোবাইলে জেএমবির কার্যক্রমের কিছু কনটেন্ট পাওয়া গেছে। আবু আব্দুল্লাহ মো. সোয়াইব ছাত্রজীবন থেকে উগ্রবাদের প্রতি আগ্রহী ছিল বলে জানিয়েছে। সে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে চিটাগাং বিল্ডার্স অ্যান্ড মেশিনারিজের ময়মনসিংহ শাখায় চাকরি করত। ময়মনসিংহের সেহড়া মুন্সীবাড়ী এলাকায় তারা একই মেসে থাকত।
- বিষয় :
- জঙ্গি
- আনসারুল্লাহ বাংলা টিম
- জেএমবি
