বৃষ্টির পানি কাজে লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২২ | আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:২৭
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য গভীর-অগভীর নলকূপের পরিবর্তে নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে বৃষ্টির পানি এবং ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের কথা বলেছেন তিনি। আগামীতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত্রতত্র বালু উত্তোলনের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ব্রিজের কাছাকাছি এলাকা থেকে বালু উত্তোলন না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইভাবে বালুমহালের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অপরিকল্পিত বালুমহালের কারণে পলি জমে নদীর গতি পরিবর্তন হচ্ছে। এতে নদীর তীরে ভাঙন বাড়ছে।
এ ছাড়া পরিত্যক্ত অসংখ্য বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
একনেকে অনুমোদিত জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন (ঢাকা জোন) প্রকল্প প্রসঙ্গে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এক হাজার ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের নতুন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। চলতি মাসেই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। ২০২২ সালের জুন নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।
এটিসহ মঙ্গলবার মোট সাতটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ১১ হাজার ৪২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকেই এই ব্যয় জোগান দেওয়া হবে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প। আট হাজার ৮৫০ কোটি টাকার নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্পটির কাজও এ মাসেই শুরু হবে। শেষ হবে ২০২২ সালের জুনে।
এ ছাড়া বরিশালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৪১২ কোটি টাকার এ প্রকল্পটিও একই মেয়াদে শেষ হবে।
সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু রক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সিংড়া-গুরুদাসপুর-চাটমোহর সড়কের সিংড়া অংশের সড়ক বাঁধ উঁচু করা, পেভমেন্ট পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্ত করা। ১৩৬ কোটি টাকার নতুন এই প্রকল্পটি এ মাসেই শুরু হবে। বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
পুঠিয়া-বাগমারাম মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জন্য ১৩১ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনীতে সময় ও অর্থ বাড়ানো হয়েছে। সময় বাড়িয়ে করা হয়েছে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা।
এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে: চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার কিছুটা কম হয়েছে। এ সময় বাস্তবায়নের হার ২৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অবশ্য, শতাংশের হিসাবে বাস্তবায়ন কমলেও টাকার অঙ্কে বাস্তবায়ন বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে টাকার অঙ্কে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৭১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৬৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ
প্রসঙ্গে বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন হার কমলেও এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
কারণ, টাকার অঙ্কে এডিপি ব্যয় বেড়েছে। ব্যয়টাই বড় কথা।
