শ্রম অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবিতে মানববন্ধন
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মিছিল করে টাফ। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৯:০০ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৯:৫১
শ্রমিক অধিকার, সুরক্ষা ও শ্রমখাত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন টাফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখতার। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদ (এনটিসিসি) ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করেন। সেখানে শ্রমিক, মালিক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও আইনজীবীসহ একসঙ্গে কাজ করে সুপারিশ দেন। এছাড়া সরকারের জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদে সরকার, মালিক শ্রমিক সম্মিলিতভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার অধ্যাদেশটিকে সংসদে আইনে পরিণত করার জন্য আহ্বান জানান।
টাফ নেতা অঞ্জন দাসের পরিচালনায় বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে শ্রম অধ্যাদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের বড় অংশই শ্রমজীবী হওয়ায় শ্রম সংস্কারের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায় বলে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা জানান, শ্রম সংস্কার কমিশন, এনটিসিসি, শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রণীত বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এখন সংসদে আইনে রূপান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদের ৩০ দিনের মধ্যে এটি পাস না হলে অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, এই অধ্যাদেশে মোট ১২৫টি ধারার সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত সহজ করা। আগে যেখানে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন নির্দিষ্ট সংখ্যার ভিত্তিতে পাঁচটি স্তরে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি, মাতৃত্বকালীন ও উৎসব ছুটি বৃদ্ধি, তিন বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা যুক্ত করা হয়েছে।
নেতারা আরও বলেন, এটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা। যেমন : জোরদার হবে, তেমনি শিল্পখাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শ্রমখাতে দুর্নীতি রোধ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারা হুঁশিয়ারি করে বলেন, কোনো অজুহাতে এই আইন প্রণয়ন বিলম্বিত হলে তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। তাই ঈদের ছুটির পর শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনেই শ্রম অধ্যাদেশকে ‘শ্রম আইন-২০২৬’ হিসেবে পাস করার জন্য সরকার ও সংসদ সদস্যদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তারা।
- বিষয় :
- মানববন্ধন
- প্রেসক্লাব
