ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ঢাবিতে ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধভাঙা উল্লাস

ঢাবিতে ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধভাঙা উল্লাস
×

বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গতকাল রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে জড়ো হন ফুটবলপ্রেমীরা। এ সময় ট্রফি হাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লাস। ছবি: সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৩ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২৭

চারদিকে বাঁশি-ভুভুজেলার শব্দ। ক্ষণে ক্ষণে আতশবাজি। স্লোগান, চিৎকার, হর্ষধ্বনি। উল্লাসের নৃত্যে উন্মাতাল অবস্থা। গতকাল রোববার রাতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন বাঁধনহারা আনন্দ-উল্লাস দেখা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।  বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ, হলপাড়া, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, জগন্নাথ হলের মাঠে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছে ছাত্রদল। এ ছাড়া ভিসি চত্বরে ডাকসুর উদ্যোগে একটি পর্দা লাগানো হয়েছে। বড় পর্দায় খেলা দেখতে সন্ধ্যা থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে শুরু করেন সমর্থকরা। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রবেশ সীমিত করেছে। তবু নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ক্যাম্পাস লোকারণ্য হয়ে পড়ে। 

শোডাউন নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে ঘুরতে থাকেন সমর্থকরা। মধ্যরাত অবধি আর্জেন্টিনার পতাকাসহ ক্যাম্পাসের সড়কে শোডাউন দিতে দেখা যায় আরেক দল সমর্থককে। অনেকে বাজাচ্ছিলেন ভুভুজেলা, অনেকে স্পেনের জার্সি পরিহিত ছিলেন।  

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে আর্জেন্টিনার বড় একটি পতাকা উড়িয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন অনেকে। ভুভুজেলার শব্দে তারা কাঁপিয়ে তোলেন পুরো টিএসসি এলাকা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে থাকেন আরও অনেক সমর্থক। একদল বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ফোটান।

সন্ধ্যা থেকেই টিএসসি এলাকা ও মুহসীন হলের মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন সমর্থকরা। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ভিড় করেন। 

অনেকের গায়ে ছিল পছন্দের দলের জার্সি, কারও হাতে পতাকা, কারও আবার রঙিন ভুভুজেলা। কেউ এসেছেন সপরিবারে, কেউ কেউ বন্ধুদের নিয়ে। এখানে তরুণ-তরুণী, শিশু থেকে মধ্যবয়স্ক– সব বয়সী মানুষই ছিলেন।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, বড় পর্দায় হাজারো মানুষের সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখা একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। যদিও প্রশাসন বহিরাগত 
নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে পুরো ক্যাম্পাস যেন একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিল। 

খেলা দেখতে আসা নওরীন ইসলাম বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ বড় পর্দায় সবার সঙ্গে দেখতে এসেছি, সবার সঙ্গে আনন্দে খেলা উপভোগ করব। অনেক দিন পর এমন সুযোগ আসে। আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ফাইনালে। লিওনেল মেসির জাদুতে আমরা জিতব।’ 

প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল কবির বলেন, ‘বিশ্বকাপের উন্মাদনা ক্যাম্পাসে ভিন্ন রকম। বড় পর্দায় এত মানুষের একসঙ্গে খেলা দেখার আনন্দ অন্যরকম। তাই ক্যাম্পাসে খেলা দেখতে এসেছি।’ 

আরও পড়ুন

×