শিশুদের সৃজনশীলতায় মুখর ‘আগামী ফেস্ট’
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:১৮
একটি শিশু ছবি আঁকছে, আরেকজন ব্যস্ত বিজ্ঞান প্রকল্প নিয়ে। কোথাও চলছে পুঁথি পাঠ, কোথাও নাচ ও গান। মঞ্চের সামনে কখনও রবীন্দ্রসংগীত, কখনও নজরুলসংগীতের সুর। উৎসবজুড়ে শিশুদের এমন নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শনিবার মুখর ছিল আগারগাঁওয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) সেন্টার। সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ‘আগামী ফেস্ট ২০২৬’।
‘সব শিশুদের জন্য শিক্ষা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে আগামী। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা আয়োজনে অংশ নেয় আগামী বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা। শুধু সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নয়, বিজ্ঞান ও গণিত মেলা, কুইজ, চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন পর্বে নিজেদের দক্ষতা ও আগ্রহ তুলে ধরে তারা।
উৎসবের বিজ্ঞান ও গণিত মেলায় শিক্ষার্থীরা ১৪টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শন করে। এসব প্রকল্প ও শিশুদের শিল্পকর্ম মূল্যায়ন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তারা। ফলে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশুদের জন্য এটি হয়ে ওঠে শেখা, নিজেদের ভাবনা প্রকাশ এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্র।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিন ও নজরুলসংগীতশিল্পী রেবেকা সুলতানা। শিশুদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি তারা সংগীত পরিবেশন করেন। অদিতি মহসিন শিশুদের গান গেয়ে শোনান। রেবেকা সুলতানাও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে গান পরিবেশন করেন।
উৎসবের স্বাগত বক্তব্য দেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নেহরীন মাজেদ এবং আগামী ইনকর্পোরেটেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম।
আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব রসায়ন ও আনবিক জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ও চিত্রশিল্পী ড. রশীদ আমিন এবং স্থপতি ও শিশুতোষ ম্যাগাজিন ‘টইটম্বুর’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হাসনাইন সাবিহ নায়েকসহ অনেকে।
অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘আমাদের অনেক শিশু আছে, যারা সমাজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের কেউ কেউ খুবই মেধাবী। তাদের মেধার বিকাশের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।’
শিশুদের এমন আয়োজনে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে অদিতি মহসিন বলেন, ‘শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য এই আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। আগামী শিশুদের নিয়ে যে কাজটি করে যাচ্ছে, এটি আসলে আমাদের সবার দায়িত্বটিই তারা পালন করছেন।’ পরে তিনি গান পরিবেশন করেন।
রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শিশুরা কত রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেও নিজেকে বিকশিত করার জন্য চেষ্টা করছে, তা দেখে আমি অভিভূত।’ পরে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে গান গেয়ে শোনান তিনি।
উৎসবে প্রকাশ করা হয় ‘আগামী’ ম্যাগাজিন। এর প্রকাশনা উদ্বোধন করেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাফিসা খানম। ম্যাগাজিনটিতে আগামী’র পথচলা, বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের পাশাপাশি শিশু ও বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কাজের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, আগামী সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তাদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘আগামী ফেস্ট’ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের কেবল দর্শক হিসেবে না রেখে উৎসবের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সামনে নিয়ে আসা।
আয়োজকদের মতে, তাদের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিশু সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে আসে। যথাযথ সুযোগ পেলে এসব শিশুর মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাও বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উৎসবের মাধ্যমে তাদের সেই সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেদের অর্জন ও প্রতিভা সবার সামনে তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র তৈরি করাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
- বিষয় :
- রাজধানী
- সুবিধাবঞ্চিত শিশু