আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের মেডিকেলগুলো এখনও পিছিয়ে: ডা. এ কিউ এম মোহসেন
বক্তব্য রাখছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন। ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৬ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৬
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের মেডিকেলগুলো এখনও পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন। তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, গবেষণাসহ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণে বিশ্ব ফেডারেশন অব মেডিকেল এডুকেশন (ডব্লিউএফএমই) স্বীকৃত বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন এক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) এক্রিডিটেশনপ্রাপ্ত মেডিকেলের সংখ্যা খুবই কম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের মেডিকেলগুলো এখনও পিছিয়ে।’
আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের বিএমইএসির এক্রিডিটেশন অর্জন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় কোনো মেডিকেল হিসেবে বিএমইএসির এক্রিডিটেশন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এর আগে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি অর্জন করেছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামবাসীর জন্য এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের কথা জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন বলেন, বিএমইএসির এক্রিডিটেশন অর্জন একটি মেডিকেল কলেজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ, একটি মেডিকেল কলেজ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা, শিক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেই এমন স্বীকৃতি লাভ করতে পারে। দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা অনেক, কিন্তু সেই হারে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হাতেগোনো কয়েকটি। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় কোনো মেডিকেল কলেজ হিসেবে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের এক্রিডিটেশন অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ। প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ডা. এ কে এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এটিএম রেজাউল করিম, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিনা আক্তার প্রমুখ।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরাই এমন অনন্য অর্জন লাভ করতে সক্ষম হয়েছি। এটা চট্টগ্রামবাসীর জন্য অনেক গর্ভের ও প্রাপ্তির। আগামীতেও আন্তর্জাতিক মানের পড়ালেখা, গবেষণা ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, চট্টগ্রামে রোগীর কয়েকগুণ বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার জন্য এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে হাসপাতালের ফাইলিং কাজও শুরু হয়েছে। ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য। তাই, আমরা উক্ত বিষয়ে দাতা সংস্থা, সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমাদের আবেদন তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম