ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

সমকালের আয়নায় বিতর্কিত কাউন্সিলর

অনু ও অনুসারীদের দাপটে কাঁপে উত্তর যাত্রাবাড়ী

অনু ও অনুসারীদের দাপটে কাঁপে উত্তর যাত্রাবাড়ী
×

আতাউর রহমান

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১৫:৫৪

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা এলাকায় লোহা ও ইস্পাতের সরঞ্জাম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এই কাজ শুরু করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুর 'অনুমতি' পাওয়ার পর রাতারাতি দূর হয়ে যায় সব 'বাধা'। এখন নির্বিঘ্নেই চলছে ভবনটির নির্মাণকাজ। তবে 'অনুমতি' পাওয়ার নেপথ্যের কথা জানতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আক্ষেপের সুরে শুধু এটুকু বলেন, কুমিরের মুখের সামনে থেকে এত কথা বলা যায় না।

শাহনাজ বেগম নামের এক নারী গত জানুয়ারিতে সংবাদ সম্মেলন করে অন্য একটি ঘটনায় কাউন্সিলর অনুর ভূমিকা সম্পর্কে অনেক কিছুই খোলাসা করে দেন। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্বজনদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। তিনি বিচার চেয়েছিলেন কাউন্সিলরের কাছে। উল্টো কাউন্সিলর তাকে বলেছিলেন, বাড়িটি তার টার্গেটে রয়েছে। শাহনাজ সেখানে থাকতে পারবেন না। আবার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে অনৈতিক প্রস্তাবও পান শাহনাজ।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ অভিযোগ করেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর পাঁচ বছর ধরে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। কাউন্সিলরের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার সেই চাকরি গেছে। এরপর একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে চাকরি নেন তিনি। কাউন্সিলর অনুর চাপে তাকে সেই চাকরিও ছাড়তে হয়। যদিও তিনি মামলা করে এখনও স্বামীর বাড়িতেই আছেন। তবে পুরো সময় তার আতঙ্কে কাটে।

উত্তর যাত্রাবাড়ী, বিবিরবাগিচা, কাজলা সুতির খালপাড় ও সায়েদাবাদের কিছু অংশ নিয়ে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড। বেশ কয়েক দিন ওই ওয়ার্ড ঘুরে নানাজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, সেখানে কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নতুন বাড়ি তোলার আগে অতি অবশ্যই সম্মতি নিতে হয় তার। সে জন্য দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। এ ছাড়া জমি ও বাড়ি দখল, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং বিচার-সালিশের নামে টর্চার সেল চালানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে।

এলাকার লোকজনের অভিযোগ, কাউন্সিলর অনুর যাবতীয় অপকর্মের অন্যতম সহযোগী তার ভাতিজি জামাই ওমর ফারুক এবং ভাগ্নে মো. সুজন। এলাকার মানুষ তাদের 'জামাই ফারুক' ও 'ভাগ্নে সুজন' নামে চেনে। কাউন্সিলর শ্বশুরের হয়ে জামাই ফারুক চাঁদাবাজি আর দখলের বিষয়গুলো সামলান। ভাগ্নে সুজন নিয়ন্ত্রণ করেন মাদকের কারবার।

একাধিক দিন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ভুক্তভোগীদের নানা অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। তবে কাউন্সিলরের লোকজন এতটাই বেপরোয়া যে, তাদের অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলতেও ভয় পান সবাই। কেউ কেউ কথা বলেছেন নাম-পরিচয় গোপন রেখে।

অবশ্য যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওই ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মিজানুর রহমান ভান্ডারী সমকালকে বলেন, এলাকাটি পুরোপুরি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যারা এসব অপরাধ দমন করবেন, তারাই যদি এসবের নেতৃত্বে থাকেন- তাহলে কী অবস্থা হয়, তা এলাকার বাসিন্দারা টের পাচ্ছেন। দখল, চাঁদাবাজি আর মাদক- সব অপরাধই আছে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে।

নাম প্রকাশ না করে এলাকার দু'জন কলেজশিক্ষক প্রায় একই কথা বললেন। তারা জানান, কাউন্সিলরের লোকজনের অত্যাচার তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। সবাই মুখ বুজে সহ্য করছেন।

কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সমকালকে বলেন, তিনি ১৭ বছর ধরে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং টানা দু'বারের কাউন্সিলর। প্রতিপক্ষ গ্রুপ সব সময় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার ভাতিজি জামাই ফারুকের নামে বিভিন্ন অভিযোগ এলেও তিনি উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী। ভাগ্নের মাদক ব্যবসার কথা অস্বীকার করে কাউন্সিলর বলেন, সুজন তার সঙ্গেই থাকেন। তিনি নিজে বৈধ ব্যবসা করেই চলেন।

দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগনামা: ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের মানুষ আর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তর যাত্রাবাড়ীর স্থানীয় কবরস্থান গলিতে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। সেখানে কাজের শুরুতে বাধা দেন কাউন্সিলর অনু। শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়ার পর তিনি বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করতে পেরেছেন। এক পর্যায়ে আরও চাঁদা দাবি করায় দোতলা পর্যন্ত করে বাড়ি নির্মাণ বন্ধ রেখেছেন। ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত ফোনে জানালেন, 'সবকিছুর পরও তিনি যে তার বাড়িতে আছেন- এটাই তার কাছে এখন বড় বিষয়।' ওই বাড়ির মালিকের একজন স্বজন সমকালকে বলেন, তাদেরকে এলাকায় থাকতে হবে। এসব বিষয়ে মুখ খুললে আর রক্ষা পাওয়া যাবে না।

এলাকার রজনীগন্ধা গলির একটি বাড়ি দখলের অভিযোগও রয়েছে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। বাড়িটি এখন ছয়তলা। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে কাউন্সিলরের লোকজন অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছিল। যার শিকার হচ্ছিল এলাকার তরুণরা। করোনার কারণে আপাতত সে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় মসজিদ-ই-মনিরের খালি জায়গার একাংশ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে কাউন্সিলরের লোকজনের বিরুদ্ধে। সেখানে ভবন তৈরি করে হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। বিবিরবাগিচা ১নং গেটের পাশে বায়তুল ইজ্জত মসজিদের দোকান দখল করার অভিযোগ রয়েছে অনুর বিরুদ্ধে। জানা গেছে, সায়েদাবাদ মন্নফ কেরানী গলিতে মাত্র এক কাঠা জমিও সুযোগ পেয়ে দখল করে নিয়েছেন কাউন্সিলর। এ ছাড়া সায়েদাবাদ জনপথ এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাছে কাউন্টার হিসেবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, কাউন্সিলর অনুর কাছে কেউ জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিচার-সালিশ নিয়ে গেলে তিনি আগে দলিল দেখতে চান। দলিলে ঝামেলা থাকলে তিনি আগ্রহ দেখান। ওয়ারিশদের মধ্যে ঝামেলা লাগিয়ে তিনি একটা অংশ নামমাত্র মূল্যে লিখে নেন। বিচারপ্রার্থী দুর্বল হলে শেষ পর্যন্ত ওই জমি গ্রাস করে নেন তিনি। আবার ওয়ারিশ সনদও বিক্রি করেন হাজার হাজার টাকায়।

এর বাইরে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা কাঁচাবাজারের নিয়ন্ত্রণও কাউন্সিলর ও তার লোকজনের হাতে। ওই বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বাজারে দুই শতাধিক স্থায়ী ও শতাধিক অস্থায়ী দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৪০০ টাকা চাঁদা নেয় কাউন্সিলরের লোকজন। জামাই ফারুকের নেতৃত্বে এসব দোকান থেকে চাঁদা তোলে বিশেষ বাহিনীর সদস্য ঠেলা সেলিম, লাম্বু রিপন, সাজ্জাদ, জাহিদ হোসেন জুয়েল ওরফে নেতা জুয়েল ও উজ্জ্বল।

এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী এলাকার কলার আড়ত, মাছের আড়ত ও চাউলের আড়তে প্রতি রাতে আসা ট্রাকে চাঁদাবাজি করে কাউন্সিলরের লোকজন। প্রতি ট্রাকে ২০০ টাকা, পিকআপ ভ্যান থেকে ১৮০ টাকা ও ঠেলাগাড়ি থেকে ২০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলে এই চাঁদাবাজি। এসব চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ জামাল, মনির, সেন্টু ও হাসুর হাতে। মাঝেমধ্যে কাউন্সিলর নিজেই চলে যান চাঁদার টাকা তুলে নিতে।

দখল-চাঁদাবাজির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর অনু সমকালকে বলেন, গত সিটি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন কেএম ফজলুল হক। তিনিই বিভিন্নজনকে সাজিয়ে ও শিখিয়ে-পড়িয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেন। দখল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।

চাঁদা তোলার বিষয়ে যাদের নাম এসেছে (এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে নাম শোনার পর) তাদের বিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, এরা তো ফজলুর লোক।

আবুল কালাম অনুর অভিযোগের বিষয়ে গত নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী কেএম ফজলুল হক সমকালকে বলেন, মানুষ বিপদে থাকলে তো এমন কথাই বলবে। আমি পারলে কারও উপকার করি, না পারলে চুপ থাকি। কারও বিরুদ্ধে কথা বলি না।

৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদ কমিটির সদস্যরা বলেছেন, কাউন্সিলর অনু ও তার অনুসারীরা নানা দখল আর চাঁদাবাজির পর এখন এলাকার মসজিদগুলোর দিকে নজর দিয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে কমিটি থাকার পরও তিনি চিঠি পাঠিয়ে অনেক মসজিদের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন নিজের অনুসারীদের দিয়ে। তাদের অনেকে মসজিদে নামাজ পড়তেও যান না। এ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কাউন্সিলরের ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তর যাত্রাবাড়ীর বড় মসজিদ হিসেবে পরিচিত বাগে জান্নাত মসজিদে নিজের অনুগত খান মনির নামে একজনকে সভাপতি ঘোষণা করেন কাউন্সিলর। এ নিয়ে সেখানে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে ঝিলপাড় মসজিদে জামাই ফারুককে সেক্রেটারি ঘোষণা করেন তিনি। বিবিরবাগিচা সুতির খালপাড় এলাকায় বায়তুল আমান মসজিদে নিজেই সভাপতি হন কাউন্সিলর অনু। সেখানে সেক্রেটারি করেন অনুসারী আবদুস সালাম বাবুকে। এই বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

এভাবে মসজিদ কমিটি গঠনের বিষয়ে কাউন্সিলর অনু বলেন, যোগ্য লোকেরাই মসজিদের দায়িত্বে আসছেন। মুসল্লি ছাড়া তো কেউ মসজিদের দায়িত্ব নিতে পারে না, সে রকম কাউকে দায়িত্ব দেওয়াও হয়নি।

অলিগলি নিয়ন্ত্রণ কমিটি: উত্তর যাত্রাবাড়ীর লোকজন জানান, কাউন্সিলর অনু পুরো এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বিভিন্ন গলিতে তার অনুসারীদের দিয়ে বিশেষ কমিটি করেছেন। অলিগলিতে দোকান ভাড়া করে বানানো হয়েছে এসব কমিটির ক্লাব। এসব গলি কমিটি তদারকি করেন জামাই ফারুক। কমিটির কাজ হচ্ছে, এলাকায় কেউ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কথা বললেই তা প্রতিরোধ করা। কোনো গলিতে নতুন বাড়ির কাজ শুরু হলে তা কাউন্সিলরের নজরে আনে ওই কমিটির সদস্যরা। কোনো বাড়িতে বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস লাইন লাগলেও গলি কমিটি তা তদারকির দায়িত্ব নেয়। সব কাজেই তাদের চাঁদা দিতে হয়। এলাকার লোকজনের কাছে এই গলি কমিটি এক আতঙ্কের নাম। কারণ কমিটি যেভাবে চায়, তা না হলে এলাকাবাসীর ওপর নেমে আসে নির্যাতন। বিচার-সালিশের নামে ক্লাবে ধরে নিয়ে টাকা আদায় থেকে শুরু করে নির্যাতনও চালানো হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামাই ফারুক ছাড়াও গলি কমিটিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে রেজওয়ান, তোফায়েল, শাহাদাত ও সেলিম। তবে পাশের ওয়ার্ডের কালাম নামের এক সন্ত্রাসীও এই কমিটির অন্যতম সদস্য। সালিশের নামে নির্যাতনের প্রায় সব ঘটনায় এই কালামের সরব উপস্থিতি দেখা যায়।

সালিশের নামে নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, একবার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জনি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়। কাউন্সিলর নিজেও তাকে মারধর করেন। এর আগে চাঁদা না দেওয়ায় ডিশ লাইনের ব্যবসায়ী আরিফের ওপরও নেমে এসেছিল চরম নির্যাতন। এ ছাড়া ভুসিওয়ালা গলির হালিম শেখ ওরফে খোকন এবং কবরস্থান গলির শহীদুল ইসলামকে নির্মম নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন তারা। নির্যাতিতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জনির কাছে তার ওপর নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

গলি নিয়ন্ত্রণ কমিটিগুলোর বিষয়ে কাউন্সিলর অনু বলেন, তার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ১০টি ইউনিট কমিটি রয়েছে। এর বাইরে কোন কমিটি কী করল, সে দায়িত্ব তিনি নেবেন না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি জনগণের সেবা করেন, কাউকে মারধরের রেকর্ড তার নেই।

মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ভাগ্নে সুজনের হাতে: গত ১৯ নভেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের একজন হারুন অর রশীদ ওরফে জুনিয়র মুন্না। এই মুন্না ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুনিয়র মুন্না ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুর ঘনিষ্ঠদের একজন। এলাকার মাদকরাজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী 'ভাগ্নে সুজনে'র অন্যতম সহযোগী। সুজনও তিন বছর আগে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে পুরো এলাকায় মাদক সম্রাট হয়ে ওঠে সে। তার নেতৃত্বে উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকাটিতে এখন মাদকের ছড়াছড়ি। স্থানীয় থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সুজনের মাদক কারবারের বিষয়ে তারাও অনেক কিছু জানেন।

সূত্র বলছে, সুজনকে টাকা না দিয়ে রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী দিয়ে মাদকের কোনো চালান ঢোকে না। এই মাদকচক্রের সদস্যদের মধ্যে জুয়েল, মহসিন, জসিম, কালা শিমুল, মঞ্জুর, কন্টাক্ট আরিফ, কবির, শাহাদাত ও তার স্ত্রী অন্যতম।

ওই এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, রাত নামলেই সুজনের নেতৃত্বে 'ঝটিকা সংসদ' নামে স্থানীয় একটি ক্লাবে প্রকাশ্যে জুয়া আর মাদক বিক্রি হয়। রাতভর চলে আড্ডা। এ ছাড়া স্থানীয় মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারের দোতলা দখল করেও সুজন জুয়ার আসর বসিয়েছেন। সেখানেও অবাধে চলে মাদক বিক্রি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার মতো করে চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

পুরো এলাকায় মাদক বিক্রির জন্য একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপও রয়েছে সুজনের। ওই দলে ১৫-২০ জন রয়েছে। যাদের সবার বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এই গ্রুপটি বিবিরবাগিচা ৪নং গেট, সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেন, কলাপট্টি ও সূর্য কমল এলাকায় মাদক বিক্রি করে থাকে।

ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আতিকুল্লাহ বলেন, গোটা এলাকাটি যেন মাদকের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে ভালোভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু বলেন, এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণেই আছে। তবে আরও শক্ত হওয়া দরকার। এর জন্য সবাইকেই দায়িত্ব নিতে হবে। জুনিয়র মুন্না নামে কাউকে তিনি চেনেন না বলে জানান। কিন্তু তার সঙ্গে ছবি থাকার কথা জানালে কাউন্সিলর বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনেক লোকই তো ছবি তোলে। তবে পুরো এলাকা ঘুরে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষে জুনিয়র মুন্নার নামে বেশকিছু ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

×