দুপুরে রেললাইনে গল্প-খুনসুটি, সন্ধ্যায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ স্বামী-স্ত্রী
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০০:৪০ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০০:৪১
দুপুরে রেললাইনের পাশে পাশাপাশি হাঁটছিলেন স্বামী-স্ত্রী। কখনও গল্প, কখনও খুনসুটি। তাদের দেখে তখন বোঝার উপায় ছিল না, কয়েক ঘণ্টা পর এই রেললাইনেই থেমে যাবে দু’জনের জীবন। শনিবার সন্ধ্যায় ইজ্জতপুর রেলস্টেশনের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছিন্নভিন্ন মরদেহ ঘিরে নেমে আসে শোক ও চাঞ্চল্য।
গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগন্যাল এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে রিনা আক্তার (২৫) ও তাঁর স্বামী আল আমিন। রিনা স্থানীয় আরবেলা ফ্যাশন কারখানায় এবং আল আমিন শ্রীপুর পৌরসভার ছালিলাপাড়া এলাকার হ্যামস গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
ঘটনাস্থলে পাওয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রথমে রিনা আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে স্বজনদের মাধ্যমে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি তাঁর স্বামী আল আমিন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরের পর থেকেই রিনা ও আল আমিনকে রেললাইনের আশপাশে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় তাঁরা রেললাইন ধরে হাঁটাহাঁটি করেন, গল্প ও খুনসুটি করেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হতে দেখেছেন। তবে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রত্না বেগম বলেন, ‘দুজনকে রেলপথ ধরে হাঁটাহাঁটি করতে দেখেছি। তাঁরা দীর্ঘ সময় সেখানে বসে গল্প ও খুনসুটি করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ তাঁদের মৃত্যুর খবর পাই।’
আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, এক পথচারীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, দুপুরের দিকে ওই দুজনকে রেললাইনের কাছে ঝগড়া করতে দেখা গিয়েছিল। তবে তাঁদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
আব্দুল আলীম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দু’জনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ট্রেনের ধাক্কায় মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে রেললাইনের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত রিনা আক্তারের ভাই সুমন আহমেদ বলেন, তাঁর বোন আগে অন্য একজনের সঙ্গে সংসার করতেন। পরে সেই সংসার ছেড়ে আল আমিনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। কী কারণে তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি জানেন না।
স্বজনদের একজনের দাবি, আল আমিন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তবে তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শামীমা জাহান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের অবস্থা এতটাই বীভৎস যে চেনা কঠিন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।
- বিষয় :
- গাজীপুর
- মরদেহ উদ্ধার
- আত্মহত্যা