ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

‘বুক থেকে চাকু বের করার আকুতি জানাচ্ছিলেন, কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না’

‘বুক থেকে চাকু বের করার আকুতি জানাচ্ছিলেন, কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না’
×

নিহত শরিফুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সমকাল

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৯

‘লোকজনের চিৎকার শুনে আমি ছুটে যাই বাইরে। এ সময় তোড়াইয়ের মোড়ে গিয়ে দেখি আমার স্বামী হিরা বুকে চাকু বিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। হিরা ছটফট করে তার বুক থেকে চাকুটি বের করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চাকুটি বের করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারলাম না।’—এভাবেই স্বামীর মৃত্যুর বর্ণনা দেন শামসুন্নাহার মুক্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম হিরাকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে এবং গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের সভাপতি শেখ সোহেল।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কামরুলের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন হিরা। কয়েক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে হিরা বাড়ি থেকে বের হলে তার পথ রোধ করেন কামরুল।

হিরার চাচা ও স্থানীয় শিক্ষক রবিন নুরতাজ বলেন, বাকি টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের বুকে আঘাত করে পালিয়ে যান কামরুল।

শরিফুল ইসলাম হিরা

স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকের টাকা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামসুন্নাহার মুক্তা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন

×