শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার, পঞ্চগড়ে গণিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৯
পঞ্চগড়ের চার উপজেলার ২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ জন গণিত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ মাস্টারক্লাস’ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
শনিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ইকো মহানন্দা কটেজে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শেষ হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), সাজেদা ফাউন্ডেশন ও কাজী ফার্মস গ্রুপ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রশিক্ষণে গণিত শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে গণিত শেখানোকে সহজ ও আনন্দদায়ক করার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকেরা প্ল্যাটফর্মের মনিটরিং ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ধারণা নেন।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে ‘খান একাডেমি’ প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম চালু রাখতে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি মেরামতের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাউশির রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেকশনের উপপরিচালক নাহিদা পারভিন বলেন, গণিত এমন একটি বিষয়, যেখানে একটি ধারণা না বুঝলে পরের ধারণাটি বোঝা কঠিন। তাই গণিত শেখার ক্ষেত্রে বুঝে শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাহিদা পারভিন বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পঞ্চগড়ের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিচালনার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। উন্নয়নের সুফল শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে খান একাডেমি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আজওয়া নাঈম বলেন, প্রযুক্তি-সহায়ক শ্রেণিকক্ষ তৈরিতে খান একাডেমি প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকেরা যাতে সহজে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে গণিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, সে জন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।
পঞ্চগড়ে কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সহায়তার জন্য কাজী ফার্মসকে ধন্যবাদ জানান আজওয়া নাঈম।
অনুষ্ঠানে ভজনপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে তাদের গণিতে দক্ষতার স্তরে উন্নীত করতে তিনি কাজ করবেন।
কাজী ফার্মস গ্রুপের পরিচালক কাজী জিসান হাসান বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে চায় তাদের প্রতিষ্ঠান। পঞ্চগড়ে তাদের একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। তাই দেশের এই প্রান্তিক অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখতে পেরে তারা আনন্দিত।
অনুষ্ঠানে মাউশির প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট উইংয়ের রিসার্চ অফিসার জিসান, পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালী, সাজেদা ফাউন্ডেশনের পার্টনারশিপ ও ফান্ড রেইজিং ইউনিটের ব্যবস্থাপক রামিযা আহমেদ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আহমেদ আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও কাজী ফার্মসের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং মাউশির অনুমোদনে বর্তমানে ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, চাঁদপুর ও পঞ্চগড় জেলার ১০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি