বিদেশি পর্যবেক্ষকের তালিকায় ২৮ বাংলাদেশি, নির্বাচনী নীতিমালা লঙ্ঘন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ০২:২০ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ০২:৩৩
ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদেশি দূতাবাসে চাকরি করা অনেক বাংলাদেশিকে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কার্ড দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম ভেঙে ইসি এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলো ইসির কাছে থেকে পর্যবেক্ষক কার্ড নিয়েছে। এসব কার্ডের তালিকায় দেখা গেছে, ১০টি দেশের মিশনের মোট ৭৪ জন পর্যবেক্ষক কার্ড পেয়েছেন। তবে এর মধ্যে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি করা ২৮ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাকি ৪৬ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।
বাংলাদেশি ২৮ জনের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কার্ড দেওয়াটা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালায় বলা হয়েছে- নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থা/কূটনৈতিক মিশনের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হওয়ার বিধান নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থা/কূটনৈতিক মিশনের বিদেশি কর্মকর্তা/কর্মচারী বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে গণ্য হবে। বিদেশিদের বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী এবং স্থানীয়দের স্থানীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।
স্থানীয় ১১টি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১ হাজার ১৩ জন বাংলাদেশি দেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে ইসির তালিকাভুক্ত। এরপরও চাকরির সুবাদে দূতাবাসের ওই ২৮ বাংলাদেশি বিদেশি পর্যবেক্ষকের কার্ড করিয়ে নিয়েছেন। ভোটের দিন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। এর ফলে বাংলাদেশি হয়েও ২৮ জন পাচ্ছেন বিশেষ সুবিধা।
এ বিষয়ে ছহুল হোসাইন বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষণ সংস্থার পক্ষ থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকাটাই শ্রেয়। দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বিদেশি পর্যবেক্ষক করা ঠিক হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ভোট দেখতে পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর লোকজন নানা পরিকল্পনা নিয়ে আসেন, তাদের ট্রেনিংও রয়েছে। কিন্তু দূতাবাসের লোকজন যারা দেশিয়, তাদের পর্যবেক্ষণে ঘাটতি থাকতে পারে। তারা ভোট দেখতে যাবেন কেন?
এ বিষয়ে সিইসি নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিধিতে আছে তারা যেতে পারবে, তাদের নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা তো বাইরে থেকে আসেনি, তারা এখানকার। বিভিন্ন দূতাবাসে যারা আছেন, তারা এখানকার। তারা তালিকা দিলে আমরা পরীক্ষা করে তাদের অনুমতি দিতে পারি। সে অনুমতি আছে, গাজীপুরসহ বিভিন্ন সিটি নির্বাচনেও তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। তবে তারা যেন বিধির বাইরে কোনো রকম আচরণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা থাকবে।
