ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

'বিদ্রোহী' কাউন্সিলর প্রার্থীর এলাকায় বিশেষ নজর

'বিদ্রোহী' কাউন্সিলর প্রার্থীর এলাকায় বিশেষ নজর
×

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৪৭

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল শুক্রবার থেকে পুলিশ-র‌্যাবের সদস্যদের টহল বেড়েছে। প্রায় ফাঁকা সড়কের মোড়ে মোড়ে ছিল চেকপোস্ট। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সার্বিক এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে যেসব ওয়ার্ডে শক্ত 'বিদ্রোহী' কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত নজরদারি। এমন কিছু এলাকায় নাশকতার শঙ্কা রয়েছে বলে আগে থেকেই নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে।

রাজধানীর ৫০ থানা এলাকায় ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় রয়েছেন। প্রতিটি থানা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে পুলিশের দুটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে। একেকটি ফোর্সে অন্তত ১৫ জন করে সদস্য রয়েছেন।

ভোটের মাঠে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বৈঠক করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মোহা. শফিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরে ডিএমপি কমিশনার সমকালকে বলেন, নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বত্র কঠোর নজরদারি রয়েছে। বড় ধরনের কোনো অঘটন এখন পর্যন্ত ঘটেনি। ভোটের পরও যাতে কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা করলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, স্বাভাবিক ও সুন্দর পরিবেশে নাগরিকরা যাতে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম সমকালকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে র‌্যাব ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। পুরো রাজধানীতে থাকছে ১৫০ প্যাট্রোল টিম। শনিবার সকাল থেকে হেলিকপ্টার দিয়েও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবির ৬৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের আগে ও পরে চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন তারা। এ ছাড়া সংস্থাটির ১০ প্লাটুন রিজার্ভ থাকবে নির্বাচনকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়। প্রতি দুটি সাধারণ ওয়ার্ডে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। বিজিবির সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন ঘিরে তিন ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তা হলো- ভোটের আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পর। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে থেকে বাড়তি ফোর্স এনে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের সময় কারও প্রতি পক্ষপাত না করতেও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, উভয় সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বাইরেও শক্ত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। সেখানে পাল্টাপাল্টি হামলার শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডে (মতিঝিল ও ফকিরাপুল) আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মোজাম্মেল হক। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিতর্কিত যুবলীগ নেতা একেএম মমিনুল হক সাঈদ ওরফে ক্যাসিনো সাঈদের স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখী। এমনকি কৌশলগত কারণে সাঈদ নিজেও প্রার্থী হয়েছেন। যদিও এলাকায় প্রকাশ্যে প্রচার না থাকলেও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা বৈশাখীর প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর অভিযোগ, শুক্রবার ফকিরাপুল এলাকায় তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী মোজাম্মেল হক বলেন, শুক্রবার রাতে কে বা কারা কাউন্সিলর গলির সামনে ককটেল ফাটায়, সেটি গিয়ে ট্রান্সফর্মারের ওপর পড়ে। অন্ধকারের মধ্যে হামলায় তার ছোট ভাই মাহমুদ আহত হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিএসসিসির যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকায় থাকছে বাড়তি ফোর্স। গতকাল থেকে এসব এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে।

এ ওয়ার্ড ছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬, ৩, ৪, ১৯, ৪১, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডেও থাকবে বাড়তি ফোর্স। বাড্ডা ও সাতারকুল এলাকায় যাতে কেউ পরিস্থিতি ঘোলা করতে না পারে, সেজন্য রাখা হচ্ছে নজরদারি। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের পুলিশের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে কেউ গুজব ও অপপ্রচার ছড়াতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে থেকে কেউ এসে যাতে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ-র‌্যাবের বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ও প্রবেশপথে গতকাল সকাল থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়। কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ছিল বাড়তি নজরদারি। সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। দেশে-বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে তাদের। এ ছাড়া কেউ যাতে যানবাহনে ভুয়া স্টিকার ব্যবহার করতে না পারে, দিকেও খেয়াল রাখছেন।







আরও পড়ুন

×