এসআইকে পিটিয়ে হত্যায় পুলিশ টার্গেট ছিল না, হামলাকারীরা ছিল নেশাগ্রস্ত: র্যাব
এসআইকে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার আসামিরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৫২ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৫৪
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা টার্গেট ছিল না। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা বলে জানিয়েছে র্যাব। সোমবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় এসবির এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে তাদেরই এক গেঞ্জি কারখানায় ঢুকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এরপর ‘হামলার মূলহোতা’ প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় রোবাবর রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে এজাহারনামীয় আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরানকে এবং আমিনবাজার থেকে র্যাব-৪ এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হয়- নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছি। তাদের বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র্যাব-৪ আরও চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে এজাহারনামীয় ১৫ জনের মধ্যে র্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
ঘটনার বিবরণে র্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সাথে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন, এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।
এরপর তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিশেষ করে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধী প্রবণ হয়ে উঠেছিল, বেশ কিছুদিন থেকে তাদের আগের অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিল না। কারণ আলতাফ হোসেন এসবিতে চাকরি করেন, উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ ও একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একজন বৃদ্ধ মানুষকে (অটোরিকশা গ্যারেজের রিকশার মালিক) যখন আঘাত করা হচ্ছিল তখন মানবিকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।’
হামলাকারীরা প্রত্যেকেই নেশাগ্রস্ত ছিল, যেটিকে ‘মূল বিষয়’ বলছেন এই কর্মকর্তা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট এবং মাদক সংক্রান্ত এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে ওখানে আলতাফের উপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওখানকার গ্যাংয়ের মূলহোতা বলা যায়। তার বিরুদ্ধে তিনটা মাদক মামলাও আমরা পেয়েছি। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় চরমভাবে আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নিয়েছিল।’
এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজাজামান ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ না, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনার সময় নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা-ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। যেটিকে নাগরিকদের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
- বিষয় :
- সাভার
- এসবি
- পিটিয়ে হত্যা
- র্যাব